পিএসজির বিপক্ষে রূপকথা লিখেই কোয়ার্টারের টিকিট পেয়েছিল বার্সেলোনা। ফিরতি লেগে মেসি-নেইমার-সুয়ারেজদের এখন তেমন কোন পারফরম্যান্সই দেখাতে হবে। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে যে জুভেন্টাসের মাঠ থেকে ৩-০ গোলের বড় হার নিয়েই ফিরেছে লুইস এনরিকের দল।
দলটা বার্সা বলেই বাড়তি সর্তকতা ছিল জুভদের কোচ মাস্সিমিলিয়ানো অ্যল্লেগ্রির। তাতে আক্রমণ শাণাতে সামনে ঠেলে দিয়েছিলেন পাওলো দিবালা আর গঞ্জালো হিগুয়েনকে। ‘নতুন মেসি’ সেই দিবালার জাদুকরী জোড়া গোলের রাতে জর্জো কিয়েল্লিনির একটিতে ইতালীয় জায়ান্টদের উৎসবে শেষ হয়েছে ম্যাচ।
ঘরের মাঠ তুরিনে জুভেন্টাস শুরু থেকেই বার্সাকে চেপে ধরে। তিন মিনিটে প্রথম সুযোগ সৃষ্টি, চমকে দিয়ে ম্যাচের ৭ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়া। স্বাগতিকদের সেই গোলটি দিবালার। ডি-বক্সে জটলার ভেতর কলম্বিয়ান উইঙ্গার হুয়ান কুয়াদ্রাদোর বাড়ানো বল পেয়ে দারুণ এক শটে আন্দ্রে টের স্টেগেনকে পরাস্ত করেন মেসির আর্জেন্টাইন সতীর্থ।
ম্যাচের ২১ মিনিটে সমতা আনার দারুণ একটি সুযোগ হারিয়েছে বার্সা। চার ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ডি-বক্সে মিডফিল্ডার আন্দ্রে ইনিয়েস্তাকে খুঁজে নিয়েছিলেন মেসি। স্বাগতিক গোলরক্ষক বুফ্ফনকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন স্প্যানিশ প্লেমেকার।
ইনিয়েস্তা ভুল করলেও দিবালা ভুল করেননি। ২২ মিনিটে আবারো জাদু দেখিয়েছেন। দারুণ দক্ষতায় প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ঢুকে এই আর্জেন্টাইনের দিকে বল বাড়িয়ে দেন মারিও মানজুকিচ। তা থেকে বুলেট গতির শটে ম্যাচে জোড়া গোল পূর্ণ করেন ২৩ বর্ষী দিবালা। বিরতির আগ মুহূর্তে হিগুয়েনের দূরপাল্লার শটে দেয়াল হয়ে ব্যবধান আর বাড়তে দেননি টের স্টেগেন।
তবে বার্সাও বারবার চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফেরার। কিন্তু বোনুচ্চি, কিয়েল্লিনি, আলভেজদের নিয়ে গড়া জমাট রক্ষণ দেয়ালে মাথা খুটে মরেছে মেসি-নেইমার-সুয়ারেজদের আক্রমণগুলো।
মধ্যবিরতি থেকে ফিরে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মেসির একটি শট বার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে হতাশা বাড়ে এনরিকে শিবিরে। পরের দুমিনিটে দুবার হিগুয়েনকে হতাশ করেন স্টেগেন, বড় বাঁচা বেঁচে যায় তখন অতিথিরা।
বার্সা এসময় গোল শোধে এতটাই মরিয়া ছিল যে, বারবার অরক্ষিত হয়ে পড়েছে তাদের রক্ষণ। এই সুযোগে বার্সাকে আবার ডুবিয়েছেন জর্জো কিয়েল্লিনি। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে পিয়ানিচের কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন ইতালীয় ডিফেন্ডার।
এদিন যেন গোল করতেই ভুলে গিয়েছিল কাতালানরা। ৬৭ মিনিটে বুফ্ফনকে আবারো একা পেয়েও গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন সুয়ারেজ। আর নেইমার প্রতিবার আটকা পড়েছেন তার জাতীয় দল সতীর্থ আলভেজের কাছে।
মূল্যবান একটি অ্যাওয়ে গোলের জন্য শেষদিকে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়েছে বার্সেলোনা। জাল খুঁজে নিতে পারেনি। শেষদিকে জুভেন্টাসও ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। বার্সেলোনার সামনে তারপরও দ্বিতীয় লেগে পাহাড় ডিঙানোর কঠিন চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্র রেখেই মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিকরা।







