মিয়ানমার সরকার এবং স্থানীয় বৌদ্ধদের দ্বারা রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী জাতিগত নিধনের শিকার হওয়ার পর চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত দুঃখজনকভাবে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ নিলেও এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা। নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সু চি রোহিঙ্গা নিধন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরকে ‘ভুয়া’ বলে আখ্যায়িত করলেও দালাই লামা চলমান রোহিঙ্গা সংকটে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনিও নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত। এছাড়া তিব্বত ইস্যুতে চীনের নির্যাতনের শিকার তিনি নিজেও। তাই রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি অনুভব করি, এমন জায়গায় থাকলে বুদ্ধ ওই অসহায় মানুষদের সাহায্য করতেন।’ এছাড়া গৌতম বুদ্ধের পথ অনুসরণ করে সহিংস কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে রোহিঙ্গাদের উপর আক্রমণকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আধ্যাত্মিক গুরু দালাই লামার এই মানবিক আহ্বানের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করি। কেননা আমরা মনে করি, তিনি সহিংসতা এবং জাতিগত বিদ্বেষের পরিবর্তে গৌতম বুদ্ধের মূল শিক্ষা মিয়ানমারের সরকার, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী স্থানীয় সহিংসতাকারী এবং সারাবিশ্বের মানুষকে এই সংকটের সময় মনে করিয়ে দিয়েছেন। মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন নেতা অং সান সু চি’র কাছে তিনি জানতে চান, যারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে হয়রানি করছে তাদের এসব আগ্রাসী কর্মকাণ্ড করার আগে মহামতি বুদ্ধের কথা কি একবারও স্মরণ করা উচিৎ নয়? হ্যাঁ, রাজনীতি, অর্থনীতি আর ব্যক্তিস্বার্থের বদলে বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর মানবতাবিরোধী অপরাধ করার আগে একবারের জন্য হলেও বুদ্ধের অহিংস এবং জীবের প্রতি মানবিক হওয়ার শিক্ষার কথা স্মরণ করা উচিৎ। কেননা মানুষ আর মানবতার উপরে অন্য কোনকিছু স্থান পেতে পারে না বলে আমরা মনে করি। তাই রোহিঙ্গাদের উপর নিধনযজ্ঞ বন্ধ করে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদান করে তাদের নিজ বাড়িঘরে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে দেয়ার জন্য মিয়ানমারসহ এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাই।







