ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে সাউথ আফ্রিকাকে ১৯ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চলতি আসরে প্রথম জয় পেয়েছে পাকিস্তান। বোলিংয়ে দুর্দান্ত সময় কাটানোর ম্যাচে সাবধানী ব্যাটিংয়ে বুধবার রাতটি নিজেদের করে নিয়েছে সরফরাজ আহমেদের দল।
এজবাস্টনে শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ২১৯ রান তোলে সাউথ আফ্রিকা। লক্ষ্য তাড়া করতে যেয়ে ২৭ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৯ রান করার পর পাকিস্তান ইনিংসে বৃষ্টি হানা দেয়। পরে আর খেলা হয়নি। সেসময় ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে পাকদের প্রয়োজন ছিল ১০১ রান।
আজহার আলি ৯ রানে ফেরার আগে ছোট ঝড় তুলে সাজঘরে হাঁটা দেন অভিষিক্ত ফাহার জামান (৩১)। এরপর সাবধানী ব্যাটিং করা মোহাম্মদ হাফিজ ২৬ রানে ফেরেন। বৃষ্টি শুরুর সময় বাবর আজম ৩১ ও শোয়েব মালিক ১৬ রানে উইকেটে ছিলেন।
এর আগে মারকুটে ব্যাটিংয়ের কারণে ‘কিলার মিলার’ নাম পাওয়া মিলারের স্বভাববিরুদ্ধ এক ব্যাটিং প্রদর্শনীতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দুইশ পার করে সাউথ আফ্রিকা। মিলার দলের মহাবিপর্যয়ে ১০৪ বলে খেলেছেন অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস। ১ চার ও ৩ ছয়ে সাজানো ইনিংসটি।
ওভালে প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২৯৯ রান তোলার পর শ্রীলঙ্কাকে ২০৩ রানে থামিয়ে ৯৬ রানে জয় পেয়েছিল আফ্রিকানরা। এজবাস্টনে এমন কিছুর আশাতেই হয়ত টস জিতে ব্যাটিং নিতে দুবার ভাবেননি ডি ভিলিয়ার্স। শুরুটা মন্দও হয়নি। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান হাশিম আমলা (১৬) এলবিডব্লিউ হলে ভাঙে সূচনার ৪০ রানের জুটি।
অন্য ওপেনার কুইন্টন ডি কক ৩৩ রানে থেমেছেন হাফিজের বলে লেন্থ না বুঝে স্লগসুইপ খেলতে গিয়ে। এলবিডব্লিউ তিনিও। প্রোটিয়া ইনিংসে চাপ নেমে আসে তখনই। পরের ওভারেই যখন ইমাদ ওয়াসিমের অফস্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ তুলে ফেরেন অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্স, রানের খাতা খোলার আগেই। নিজের ২২০তম ওয়ানডেতে এসে প্রথম ‘গোল্ডেন ডাক’ মারলেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান।
তিন উইকেট তুলে নিয়ে প্রোটিয়াদের উপর ছড়ি ঘোড়াতে থাকেন পাক বোলাররা। শুরুটা হয়েছিল স্পিনারদের হাতে, আর কোমরটা ভাঙেন পেসার হাসান আলি। পরের তিন উইকেটটি তার। পরপর দুবলে জেপি ডুমিনি (৮) ও ওয়েন পারনেলকে (০) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন এই ডানহাতি পেসার।
দলীয় ১১৮ রানে ৬ উইকেট নেই, লজ্জাই অপেক্ষা করছিল প্রোটিয়াদের জন্য। কিন্তু তখনও ছিলেন মিলার। হাল ধরে একপ্রান্ত আগলে খেললেন এই বাঁহাতি, দুশো পেরোয় আফ্রিকা।
বাকিদের মধ্যে ক্রিস মরিস ২৮ ও কাগিসো রাবাদা ২৬ রানের ইনিংস খেলে খানিকটা অবদান রেখেছেন।
এই মাঠেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন শুরু করে পাকিস্তান। বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই ছন্নছাড়া দেখা গিয়েছিল দলটির খেলোয়াড়দের। এক ম্যাচ পরেই ঘুরে দাঁড়াল তারা।








