৩৩ বলে ৪৯ রানের সহজ সমীকরণ, হাতে ৭ উইকেট। সে অবস্থা থেকে রিশাদ হোসেন তিন বলের ব্যবধানে তুলে নিলেন নেদারল্যান্ডসের দুই উইকেট। বাংলাদেশ লেগ স্পিনারের এক ওভারেই ঘুরিয়ে দেয়া ম্যাচে এসেছে ২৫ রানের জয়। তাতে সুপার এইটে খেলা অনেকটাই নিশ্চিত বাংলাদেশের। শেষ ম্যাচে নেপালকে হারালেই ‘ডি’ গ্রুপ থেকে সাউথ আফ্রিকার সাথে বাংলাদেশ নাম লেখাবে পরবর্তী রাউন্ডে।
প্রথম ওভারে ১৪ রান হজম করা রিশাদের প্রতি আস্থা হারায়নি বাংলাদেশ। নিজের তৃতীয় ওভারে দুটি উইকেট পাওয়ার পর শেষ ওভারেও নিয়েছেন উইকেট। পাশাপাশি মোস্তাফিজুর রহমানের কিপটে বোলিংয়ে ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি ডাচরা। বাংলাদেশের দেয়া ১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানে থামে তারা।
সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভেল স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ সমাপ্তির সম্ভাবনা জাগিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারানোর ছবিটাই ভাসছিল যখন কিনা ১৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে একশ পেরিয়ে যায় ডাচরা। সেখান থেকে রিশাদের দারুণ বোলিং বাংলাদেশকে নিয়ে যায় জয়ের ঠিকানায়। ৪ ওভারে ৩৩ রানে তিন উইকেট নেন তরুণ স্পিনার। মোস্তাফিজ ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।
বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়াই জমিয়ে তুলেছিল নেদারল্যান্ডস। ১৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে একশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় রোমাঞ্চকর উত্তেজনার আভাস ছিল ম্যাচে। ১৫তম ওভারের চতুর্থ বলে দ্রুত রান তুলতে থাকা সাইব্রান্ড এঙ্গেলব্রেখটকে (৩৩) ফেরান রিশাদ। ওই ওভারের শেষ বলে শূন্য রানে সাজঘরে পাঠান ডি লিডেকে। দারুণ স্টাম্পিং করেন লিটন দাস।
সাইব্রান্ডের সঙ্গে লড়াকু জুটি গড়া অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসকে (২৫) পরের ওভারে ফেরান মোস্তাফিজ। ডাচদের শক্তি ফুরিয়ে যায় ওখানেই। দ্রুত উইকেট হারিয়ে হারের ব্যবধান কমানো ছাড়া লড়াই করতে পারেনি দলটি।
বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া ১৬০ রানে লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা নেদারল্যান্ডস পঞ্চম ওভারে এসে হারায় প্রথম উইকেট। টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ এনে দেন সাফল্য। নিজের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারটি শর্ট লেন্থে ছাড়েন ঢাকা এক্সপ্রেস। ডাচ বাঁহাতি ওপেনার মাইকেল লেভিট পুল করতে গিয়ে বল তোলেন আকাশে।
৩০ গজ বৃত্তের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা তাওহীদ হৃদয় সহজেই তালুবন্দী করেন। ১৬ বলে ১৮ রানে থামে ডাচ ওপেনারের ইনিংস।
২২ রানে প্রথম উইকেট হারানো নেদারল্যান্ডস পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে হারায় ম্যাক্স ও’ ডাউডের উইকেট। ১৬ বলে ১২ রান করে ফেরেন তানজিম হাসান সাকিবকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। ৭ ওভারে নেদারল্যান্ডস ৫০ রান তোলে ২ উইকেট হারিয়ে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দ্রুত এগোনো বিক্রমজিৎ সিংকে ফিরিয়ে ভাঙেন জুটি। ১৬ বলে ২৬ রান করেন তিন ছক্কায়।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাট-বল দুটোতেই অনুজ্জ্বল ছিলেন সাকিব। তিনি দলে কেনো এমন প্রশ্নও উঠে যাচ্ছিল। জবাব দিচ্ছেন সাকিব, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রথম ফিফটি এসেছে তার ব্যাটে। সঙ্গে সব ফরম্যাট মিলিয়ে শততম আন্তর্জাতিক ফিফটি পেয়েছেন টাইগার অলরাউন্ডার।








