চর জীবিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বদলাতে শুরু করেছে চর এলাকার সাড়ে ৬ লাখ মানুষের ভাগ্য। দিনে একবেলা না খেয়ে থাকা কিংবা নিজস্ব আয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকা ওইসব চরবাসী এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী। পাল্টাচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার চিত্রও।
বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার দুর্গম চর-চরমাঝবাড়ির মতোই দেশের বিভিন্ন পশ্চাদপদ এলাকায় বসবাস করা নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনে চর জীবিকায়ন কর্মসূচির প্রথম পর্যায় শুরু হয় ২০০৫ সালে। কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার ২৮টি উপজেলায় ২০১১ সাল পর্যন্ত চলে ওই কর্মসূচি।
একই বছর শুরু হয় প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়, যা এখনো চলছে ৮ জেলার ৩১টি উপজেলায়। কমপক্ষে ৬ মাস ধরে চরে বসবাস, আর দিনে একবেলা না খেয়ে থাকা মানুষকে অন্তর্ভূক্ত করা হয় প্রকল্পে। যাদের ১০টি হাঁসমুরগি, ২টি ছাগলভেড়া বা একটি বর্গা গরুর বেশি সম্পদ নেই কিংবা নেই কোনো নিজস্ব আয়ের উৎস –
এমন নারীদের এ কর্মসূচিতে আনা হয়। ১০ বছরে তাদের অনেকেরই ভাগ্য পরিবর্তন দৃশ্যমান।
চর জীবিকায়ন কর্মসূচির উপকারভোগীদের একজন জানান, প্রকল্পের অধীনে গরু পাওয়ার পর তিনি বর্গা গরু পালন ছেড়ে প্রকল্পের গরু পালন করা শুরু করেন। এখন তার অবস্থা অনেক ভালো। এভাবে গরু, গরুর খাবার, লালনপালনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পেয়ে নিজের ভাগ্য ফেরাতে পেরেছেন অন্যরাও।
বসতভিটা বিনামূল্যে উঁচু করা, গবাদিপশু হস্তান্তর, সবজিবীজ প্রদানসহ নানা ধরণের প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে চরের মানুষকে। বসতভিটা উঁচু করায় জমিতে আর পানি ওঠে না বলে জানান সেখানকার লোকজন। প্রকল্পের উপকারভোগী এক নারী বলেন, এখন আর এলাকার মানুষের খুব একটা না খেয়ে থাকতে হয় না।
প্রকল্পের আওতায় ৩৮ ধরনের সেবা পাচ্ছে চরের মানুষ।
চর জীবিকায়ন কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এম এ মতিন জানান, এলাকার ১ লাখ ৩৩ হাজার পরিবারের বাড়ির মেঝে ২ ফুট করে উঁচু করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এই প্রকল্পের অধীনে একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবারকে একটি করে গরু দেয়া হয়। এর পর থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে পরিবারটিকে সাড়ে ৬শ’ টাকা করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়।
বর্তমানে প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা প্রতিবেলা কমপক্ষে পাঁচ পদের খাবার খেতে পারে বলে জানান তিনি।
দারিদ্র্য কমে আসায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে শুরু করেছেন চরের কৃষকরা। উন্নত জীবনের স্বপ্ন এখন তাদের চোখে। উৎপাদনমুখী কাজের মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়নে চরের মানুষ এখন আর বোঝা নয়, সম্পদ।






