কক্সবাজার থেকে: জয়ের লক্ষ্যটা ছোট। ৫০ ওভারের ম্যাচে ১২৬ রান আর এমন কী! দুইশ টাকায় টিকিট কেটে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যারা ভিড় জমিয়েছিলেন, তারা বাসায় ফিরেছেন দুপুরের মধ্যেই। বিরতি ছাড়াই বাংলাদেশ-হংকং ম্যাচ শেষ মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায়। দুই দল মিলে খেলেছে ৫১ ওভার ২ বল। তারপরও পয়সা উসুল দর্শকদের। ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স হয়েছে দুর্দান্ত। প্যাভিলিয়নের সামনের গ্যালারিতে বসা হাজারখানেক দর্শক স্বাগতিক দলের ৮ উইকেটের দাপুটে জয় দেখে ফিরেছেন স্বস্তি নিয়েই।
ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে শক্তিশালী দল গড়া বাংলাদেশকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল এমনই। জয়ের ব্যবধান দেখে সন্তুষ্ট হবেন যে কেউ। অনেকদিন মনে রাখার মতোই এক পারফরম্যান্স। দারুণ বোলিংয়ের পর ব্যাটিং হয়েছে দুর্দান্ত। ব্যাটসম্যানরা চার-ছক্কার অপরূপ প্রদর্শনী দেখিয়ে উন্মাতাল রেখেছেন গ্যালারি। মাত্র ১৬.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলাদেশ। সাইফ হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত উপহার দেন চোখ জুড়ানো সব বাউন্ডারি।
ম্যাচে ৪৭ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকা সাইফের ব্যাট থেকে এসেছে ৯টি চার ও একটি ছক্কা। মাঠের চারদিকে শট খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। আরেক ওপেনার আজমীর আহমেদ শুরু করেছিলেন দুর্দান্ত। লংঅফের উপর দিয়ে ছক্কা, পরে আরেকটি চার মেরে ব্যক্তিগত ১৫ রানে অফস্পিনার এহসান খানের বলে শট কাভারে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন।

এদিন ৪৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিক দল। তিন চার ও এক ছক্কায় ২১ রান করে ওই এহসানের বলেই ক্যাচ দেন মুমিনুল। ক্যাচ ধরে বাবর হায়াত কিছু একটা বলে তাতিয়ে দেন মুমিনুলকে। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় দুজনের মধ্যে।
ওই বিতর্ক দেখে মেজাজ হারাননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ওপেনার সাইফের সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত অবিচ্ছিন্ন জুটিটি ৪১ রানের। শান্ত তিন চারে ২৩ বলে ২৪ রানের ইনিংস খেলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন।
দাপুটে জয়ের পর ম্যাচ সেরা সাইফ হাসান বললেন, ‘বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় আমরা এখন আরও আত্মবিশ্বাসী। আশা করি পুরো টুর্নামেন্টে এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারবো আমরা। ইমার্জিং কাপ খুব ভালো একটা প্ল্যাটফর্ম আমাদের জন্য।’
স্থানীয়দের কাছে ঘরের ছেলে মুমিনুল হক। তার বোলিংয়ে আসার পর শুরু হয় দর্শকদের হৈ-হুল্লোড়। অফস্পিনার নাসির হোসেনকে ভালো বোলিং করতে দেখে বোলিংয়ে আসেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দ্বিতীয় বলেই উইকেটের দেখা পান। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন হংকংয়ের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান বাবর হায়াতকে।
হংকংয়ের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন বাবর। পরের ওভারে মুমিনুল তুলে নেন আরও দুই উইকেট। হংকংকে ৩৫.১ ওভারে ১২৫ রানে বেধে ফেলতে যা রাখে দারুণ ভূমিকা। পুরো ম্যাচেই টাইগার স্পিনাররা জ্বলেছেন। নাসির হোসেন, মুমিনুল হক তিনটি করে ও রাহাতুল ফেরদৌস নেন দুটি উইকেট। পেসারদের মধ্যে এক উইকেট আবুল হাসান রাজুর। হংকং শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন এই ডানহাতি।








