পাকিস্তানের মাটিতে বাবর আজমদের হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল বাংলাদেশ। দাপট দেখিয়ে টিম টাইগার্স টেস্ট সিরিজ জিতল ২-০ ব্যবধানে। মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম দিনে চা বিরতির আগে বাংলাদেশ ১৮৫ রানের লক্ষ্যে পৌঁছায় ৪ উইকেট হারিয়ে। এত বড় অর্জনের পরও বাংলাদেশের উদযাপন ছিল সাদামাটা!
একই মাঠে পাকিস্তানকে প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক সাফল্যের পথ ধরে দ্বিতীয় টেস্টে আসে ৬ উইকেটের জয়। বিদেশের মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় সিরিজ জয়ের ঘটনা এটি।
২০২২ সালে ইংল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জিতেছিল। নিজেদের মাটিতে পাকিস্তান মোটে দু’বার হোয়াইটওয়াশ হল।

কঠিন কাজটা বাংলাদেশ সহজ করেছে দলীয় পারফরম্যান্সে। দুই টেস্টেই ব্যাটে-বলে অবদান রেখেছেন সবাই। একেক ইনিংসে হাল ধরেছেন একেকজন। তাতে এসেছে অবিস্মরণীয় সাফল্য। পাকিস্তানের মাটিতে এই সিরিজের আগে কোনো ফরম্যাটেই জয় ছিল না বাংলাদেশের।
পাকিস্তান: ২৭৪ ও ১৭২, বাংলাদেশ: ২৬২ ও ১৮৫/৪
১৫ বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেটারদের দ্বন্দ্বের জেরে সেবার খেলেছিল দ্বিতীয় সারির ক্যারিবিয়ান দল। এছাড়া জিম্বাবুয়ের মাটিতে সিরিজ জেতার স্বাদ পায় বাংলাদেশ। সেটা অবশ্য ছিল এক ম্যাচের সিরিজ।

এবার শক্তিশালী পাকিস্তানকে পরপর দুই টেস্টে দাপট দেখিয়ে হারিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে নিজেদের সেরা সাফল্য পেল বাংলাদেশ। বিদেশে টাইগারদের তৃতীয় টেস্ট সিরিজ জয়।
সোমবার জয়ের সুবাস নিয়ে বৃষ্টির বাধায় টেস্টের চতুর্থ দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। ১৮৫ রানের লক্ষ্যে বিনা উইকেটে ৪২ রান তুলেছিলেন সাদমান-জাকির।
বৃষ্টির চোখ রাঙানি থাকলেও শেষদিন খেলা মাঠে গড়ায় ঠিক সময়েই। ১০ উইকেট হাতে রেখে জয় থেকে ১৪৩ রান দূরে দাঁড়িয়ে নতুন দিন শুরু করে বাংলাদেশ।
দলীয় ৫৮ ও ৭০ রানে দুই ওপেনারকে হারায় দল। ফিফটি হাতছাড়া করেন জাকির হাসান। ওয়ানডে স্টাইলে খেলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ বলে ৪০ রান করে ফেরেন মীর হামজার বলে বোল্ড হয়ে।

সালমানের স্লিপ ক্যাচ মিসে জীবন পেয়েছিলেন সাদমান ইসলাম। তারপরও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। খুররম শেহজাদের করা বলে মিডঅনে ক্যাচ দেন এ ওপেনার। ২৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক জুটি গড়ে বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে থাকেন জয়ের বন্দরে। ২ উইকেটে ১২২ রান জমা করে প্রথম সেশন শেষ করে বাংলাদেশ।
লাঞ্চ বিরতির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক শান্ত। দলীয় ১২৭ রানে আগা সালমানের বলে আব্দুল্লাহ শফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ৮২ বলে ৫টি চারে করেন মূল্যবান ৩৮ রান। ভাঙে ৫৭ রানের জুটি।
দলের রান দেড়শ পেরোনোর পর আবরার আহমেদের স্পিনের বিপরীতে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিডঅন ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়েন মুমিনুল। ৭১ বলে ৪টি চারে সাজান ৩৪ রানের ইনিংসটি।

বাকি পথ পাড়ি দেন মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান মিলে। সাকিব ৪৩ বলে ১টি ছক্কায় ২১ ও মুশফিক ৫১ বলে ১টি চারে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের লাগে ৫৬ ওভার।
সিরিজ নিশ্চিত করার মিশনে টস জিতে আগে বোলিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। সেটি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে। প্রথমদিনের পুরোটাই ভেসে যায় বৃষ্টিতে।
মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ ও তাসকিন আহমেদের ৩ শিকারে তিনশর আগে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
জবাবে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশকে টেনে তোলেন লিটন দাস ও মিরাজ। ধ্বংসস্তূপে (২৬/৬) দাঁড়িয়ে দলকে নিয়ে যান ২৬২ রানে।
১২ রানে এগিয়ে থেকে পাকিস্তান ব্যাটিং শুরু করে সুবিধা করতে পারেনি। হাসান মাহমুদের ৫ ও নাহিদ রানার ৪ শিকারে দেড়শ পেরিয়ে গুটিয়ে যায় স্বাগতিক দল। বাংলাদেশ পায় সহজ লক্ষ্য। টিম টাইগার্স সেটি টপকে গেলও সহজেই।








