চূড়ান্ত বিচারে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে কেউ কারো পিছিয়ে না থাকার যে পরিসংখ্যান তাতেই বোঝা যায় সেরা দু’ দলই খেলছে আইপিএল-নাইন এর ফাইনাল। তারপরও আজকের ফাইনালকে মনে করা হচ্ছে দানবীয় ব্যাটিং শক্তির সঙ্গে সৃষ্টিশীল বোলিং এর লড়াই হিসেবে। এর কারণ: পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাটিংয়ে যেমন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু তাদের শক্তির জানান দিয়েছে তেমনি বোলিংয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
এবারের আইপিএলে ব্যাটিংয়ের শীর্ষে থাকা বিরাট কোহলি আজ যদি একটি রানও না করেন তারপরও তাকে কেউ শীর্ষস্থান থেকে সরিয়ে দিতে পারেন এমন কোন সম্ভাবনা নেই। আর শুধু কোয়ালিফায়ার ছাড়া পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই যে বিরাট তাণ্ডব সেটার ধারাবাহিকতাই নিশ্চিত করতে পারে চিন্নাস্বামীতে নিজের মাঠে ব্যাঙ্গালুরুর ট্রফি।
টুর্নামেন্টে ১৫ ম্যাচ খেলে ৯১৯ রান করেছেন কোহলি। শুধু তাই নয়, সেঞ্চুরি আছে চারটি, অর্ধশতক অর্ধডজন। আর গড়? ৮৩.৫৪। ছয়শ পাঁচ বল মোকাবেলায় ৭৮টিতেই বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন বিরাট, আর ৩৬টি ছক্কা।
ব্যাটিংয়ে কোহলির পরে আছেন ফাইনালে তার প্রতিদ্বন্দ্বি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ডেভিড ওয়ার্নার, এরপরই তিন নম্বরে কোহলির দলের এ বি ডিভিলিয়ার্স। সমান সংখ্যক ম্যাচে ডিভিলিয়ার্সের মোট রান ৬৮২, গড় ৫৬.৮৩। এ সাউথ আফ্রিকানেরও হাফ সেঞ্চুরির সংখ্যা হাফ ডজন, সেঞ্চুরি একটি।
আইপিএল ব্যাটিংয়ে সেরা ১৫তে এছাড়াও আছেন ব্যাঙ্গালুরুর রাহুল। তেরো ম্যাচ খেলে তার রান ৩৮৬, গড় ৪৮.২৫। রাহুলের সেঞ্চুরি না থাকলেও হাফ-সেঞ্চুরি আছে চারটি।
শীর্ষ তালিকায় না থাকলেও ব্যাঙ্গালুরুর আছেন ক্রিস গেইল। তার অতিমানবীয় একটি ইনিংসই ঠিক করে দিতে পারে খেলার ফল। কিন্তু, এমন দানবীয় ব্যাটিং শক্তি নিয়েও ব্যাঙ্গালুরুর চিন্তার কারণ হায়দরাবাদের সৃষ্টিশীল বোলিং যে বোলিং আক্রমণে আছেন বিস্ময়কর কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান।
শীর্ষ বোলার তালিকার ৭ নম্বরে আছেন এ টাইগার। পনেরো ম্যাচ খেলে তার উইকেট সংখ্যা ১৬। কিন্তু, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তার ইকোনমি রেট, বিশেষ করে ডেথ ওভারে রান না দিয়ে ব্যাটসম্যানকে আটকে রাখার কৌশল। মোট ৫৭ ওভার বল করে মুস্তাফিজ রান দিয়েছেন মাত্র ৩৮৪, ওভারপ্রতি রান দেওয়ার গড় ৬.৭৩। শীর্ষ তালিকায় থাকা কোন বোলারই তার মতো এতো কম রান দেননি।
হায়দরাবাদের জন্য শুধু মুস্তাফিজই প্রধান অস্ত্র না, ভুবনেশ্বর কুমারও আছে তাদের। ব্যাঙ্গালুরুর যেমন বিরাট কোহলি ব্যাটিংয়ের শীর্ষে তেমনি ভুবনেশ্বর বোলিংয়ে সবার উপরে। ষোল ম্যাচ খেলে ২৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তার ইকোনমি রেটও বেশ ভালো, ওভারপ্রতি রান দেওয়ার গড় ৭.৫।
সেরা ১৫ বোলারের তালিকায় সানরাইজার্সের হয়ে এছাড়াও আছেন স্রান। তেরো ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ১৩, ইকোনমি রেট ৮।
তবে, ভুবনেশ্বর-মুস্তাফিজ-স্রানে শক্তিমান হায়দরাবাদের প্রতিদ্বন্দ্বি ব্যাঙ্গালুরু যে বোলিংয়ে পিছিয়ে আছে এমন নয়। সেরা বোলার তালিকার ২ এবং ৩ এ দুটি জায়গাই তাদের দখলে। দুইয়ে থাকা চাহাল ১২ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি ৮.১। আর তিনে থাকা শেন ওয়াটসনও ২০ উইকেট দখলে নিয়েছেন। ১৫ ম্যাচে ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৮.০৭।
অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন যে শুধু বোলিংয়েই সেরাদের একজন এমন না, ব্যাট হাতেও তার আছে ম্যাজিক্যাল পাওয়ার। তবে তাদের মূল চ্যালেঞ্জ আরেক অস্ট্রেলিয়ান ডেভিড ওয়ার্নার। শীর্ষ ব্যাটসম্যানের তালিকার দুই নম্বরে থাকা ওয়ার্নার মোট রান করেছেন ৭৭৯। সেঞ্চুরি না থাকলেও ৯০ এর ঘরে অপরাজিত ইনিংস আছে তার, আছে ৮টি হাফ সেঞ্চুরি। তার চেয়েও বড় বিষয় ব্যাট হাতে একা দলকে জিতিয়েছেন বারবার।
ওয়ার্নারের ওপেনিং পার্টনার ধাওয়ানও আছেন সেরা তালিকায়। সেরা ব্যাটসম্যানের তালিকায় ৭ নম্বরে আছেন তিনি। রান করেছেন ৪৭৩, সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮২, গড় ৩৯.৪১।
ধাওয়ান এবং ওয়ার্নার একসঙ্গে ঝলসে উঠে যেমন দলকে জয় এনে দিতে পারেন তেমনি তাদেরকে থামিয়ে দিতে পারেন বল হাতে ওয়াটসনরা। আবার কোহলি-ডিভিলিয়ার্সরা যেমন ট্রফি জয় নিশ্চিত করতে পারেন তেমনি তাদেরকে আটকে দিতে পারেন ভুবনেশ্বর-মুস্তাফিজরা। এক দলে দানবীয় ব্যাটিং আর অন্য দলে সৃষ্টিশীল বোলিং থাকলেও আজকের ফাইনাল তাই শেষ পর্যন্ত হবে সমানে সমান।








