কক্সবাজার থেকে: ফুটবল ম্যাচ যখন চলে, ডাগআউটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন কোচ। খেলোয়াড়দের দেন নানা দিক-নির্দেশনা। ক্রিকেট মাঠে এমন দৃশ্য বিরল হলেও বিস্ময়কর কাজকেই অভ্যাসে পরিণত করেছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের হেড কোচ অঞ্জু জৈন।
কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি ম্যাচ চলাকালীন সময়ে ড্রেসিংরুমের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্রিকেটারদের উদ্বুদ্ধ করেন অঞ্জু। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেও এমন নজির আছে ভারতের ৪৪ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটারের। তার এক দশকের কোচিং ক্যারিয়ারে এটা চেনা দৃশ্য!
শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টি-টুয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানের মেয়েদের ব্যাটিং-বোলিংয়ের সামনে তিন ম্যাচেই ভরাডুবি হয়েছে সালমা-রুমানাদের। তাদের অসহায় আত্মসমর্পণে ম্যাচ থেকে চোখ সরে গেছে অনেকেরই। কিন্তু অঞ্জু দাঁড়িয়েই পূর্ণ মনোযোগে আবিষ্ট থেকে দেখেছেন প্রতিটি বল।
কোচিং স্টাফ, টিম ম্যানেজমেন্টের বাকি সদস্যরা এবং একাদশের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা যার যার চেয়ারে বসা থাকলেও সিরিজজুড়ে একটি জায়গাতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন কোচ। প্রথম ম্যাচের দিনই চোখে পড়ে ব্যাপারটা। সিরিজ শেষে চ্যানেল আই অনলাইনকে অঞ্জু জানালেন কেনো তিনি বসেন না।
‘মেয়েরা মাঠে কষ্ট করছে তাই আমি বসে থাকতে পারি না। মনে করেন নিজেকে ম্যাচের মধ্যে নিমগ্ন রাখি। মনের ভেতর থেকেই ব্যাপারটা আসে। আমার কোনো কষ্ট হয় না।’

অঞ্জুর বাবা অমৃত লাল জৈন খেলতেন রনজি ট্রফি। রক্তেই মিশেছিল ক্রিকেট। এখন সেটি তার কাছে ধর্মের মতো। ভারতের হয়ে ৬৫ ওয়ানডে ও ৮টি টেস্ট খেলা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ২০০৫ সালে ব্যাট-প্যাড তুলে রেখে জড়ান কোচিংয়ে। লম্বা সময় ছিলেন ভারত নারী দলের হেড কোচ। আর তখন মেয়েদের চার দিনের টেস্ট ম্যাচেও দাঁড়িয়ে থেকেই নিমগ্ন থেকেছেন বল টু বল।
অঞ্জু বাংলাদেশ নারী দলের কোচ হয়ে আসেন চলতি বছরের জুনে। তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই টিম টাইগ্রেস জেতে এশিয়া কাপের শিরোপা। কুয়ালালামপুরে ওই আসরের প্রথম ম্যাচের শেষদিকে দলের ক্রিকেটাররা বুঝতে পারেন কোচ বসে থাকার মানুষ নন!
ওয়ানডে অধিনায়ক রুমানা আহমেদ জানালেন সেদিনের বিস্ময়ের কথা, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ছিল আমাদের প্রথম ম্যাচ। দেখি উনি দাঁড়িয়ে আছেন। আমরা চেয়ার এগিয়ে দেই। বলি, ম্যাম বসেন। আমরা তখন ভাবলাম হয়তো উনি পরে বসবেন। পরে দেখলাম পুরো ম্যাচ, মানে ৪০ ওভারই উনি দাঁড়িয়ে আছেন। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেন, ম্যাচ চলার সময় আমি বসি না।’
‘খেলোয়াড়রা মাঠে কষ্ট করছে আর উনি পুরো ফোকাসই ম্যাচের দিকে দিতে চান। এতে আসলে খুবই অবাক হলাম। উনি কোচ হয়ে ক্রিকেটারদের কথা এভাবে ভাবতে পারেন, আমাদেরও তো আরও অনেক দায়িত্ব আছে। মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে যেভাবে সাবাশ সাবাশ বলে চিৎকার করেন। এ ব্যাপারটি আমাদের অনেক অনুপ্রাণিত করে।’









