তুরস্কে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর দফায় দফায় হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৬ সদস্যসহ কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। ইস্তাম্বুলের মার্কিন কনস্যুলেটে বন্দুক হামলা, পুলিশ স্টেশন এবং সিরনাক প্রদেশে টহল পুলিশ ও একই এলাকায় সেনা হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
নিষিদ্ধ সংগঠন রেভল্যুশনারি পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (ডিএইচকেপি-সি) এবং কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) ওইসব হামলার দায় স্বীকার করেছে।
তুরস্ক সরকার ও কুর্দি মিলিশিয়াদের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সোমবার দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিরনাক প্রদেশের সিলোপি এলাকায়, রাস্তার পাশে পুতে রাখা বোমায় পুলিশের চার সদস্য নিহত হয়। এর পরই একটি সামরিক হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে নিহত হন এক সেনা কর্মকর্তা। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুই পুলিশ ও এক সেনাসদস্য। সামরিক হেলিকপ্টারে হামলার দায় স্বীকার করেছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)।
তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনস্যুলেট ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুই নারী বন্দুকধারী। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুক হামলায় অংশ নেওয়া দু’জনের মধ্যে একজন সদস্য পুলিশের পাল্টা গুলিতে আহত ও পরে গ্রেফতার হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর পরই এক টুইটার বার্তায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কনস্যুলেট ভবন বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ। ২০১৩ সালেও রাজধানী আঙ্কারায় মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালিয়েছিল রেভল্যুশনারি পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (ডিএইচকেপি-সি) ।
এর আগে সোমবার সকালে ইস্তাম্বুলের সুলতানবেইলির একটি পুলিশ স্টেশনে দুর্বৃত্তরা গাড়ি বোমা হামলা চালালে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ দশজন আহত হয়। সেসময় পুলিশ পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষে, দুই হামলাকারী ও এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ইস্তাম্বুলসহ তুরস্কের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে তুর্কি প্রশাসন। গত মাসে তুরস্কে আইএস হামলা চালানোর পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে তুরস্ক।






