দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের জন্য ৮১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চতুর্থ বার্ষিক হুয়াওয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক ইনোভেশন ডে থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। হুয়াওয়ে টেকনোলজিস এবং থাইল্যান্ডের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বছরের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ‘ডিজিটাল এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নতুন উদ্ভাবন’।
সারা বিশ্ব থেকে মোট ৩শ’ জন সরকারি প্রতিনিধি ও প্রযুক্তি খাত বিশেষজ্ঞরা ওই আয়োজনে অংশ নেন। বাংলাদেশের পক্ষে এই আয়োজনে ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
প্রতিনিধিরা ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ, কিভাবে ডিজিটাল অবকাঠামো মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করে ও নতুন ব্যবস্থাকে তরান্বিত করে, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং সফলতার জন্য একটি ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি করার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছান।
থাইল্যান্ডের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ড. সমকিদ জাটুসরিপিটাক অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তৃতায় তিনি থাইল্যান্ডের ‘গোয়িং ডিজিটাল’ কৌশল তুলে ধরেন। তিনি থাইল্যান্ডে ডিজিটাল ইনোভেশনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে থাই সরকারের প্রতিশ্রুতি পুর্নব্যক্ত করেন এবং দেশটির আইসিটি খাতের উন্নয়নে সহায়ক হিসেবে হুয়াওয়ের ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘আমি থাইল্যান্ড সরকার এবং হুয়াওয়ের আরও গভীর সম্পর্ক দেখতে চাই।
অনুষ্ঠানে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের গুরুত্ব তুলে ধরে হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান গুও পিং বলেন: এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেক দেশ অর্থনীতিতে ডিজিটাল রূপান্তর শুরু করেছে। কিন্তু প্রবৃদ্ধিটা তেমন দৃশ্যমান নয়। ফলে দিন দিন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির মধ্যে দুরত্ব তৈরি হচ্ছে। আমরা একটি ম্যাথু প্রভাবের উত্থান দেখতে পাচ্ছি, যেখানে কম উন্নত দেশগুলোর চেয়ে ডিজিটালভাবে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো তাদের অবকাঠামো থেকে বেশি সুফল পায়। যাই হোক আমরা ডিজিটাল প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে যৌথভাবে কাজ করতে চাই।
হুয়াওয়ের দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট জেমস উ এই অঞ্চলের জন্য হুয়াওয়ের ‘ডেভেলপার এনাবলমেন্ট প্ল্যান’ উন্মোচন করেন।
এই প্ল্যান অনুযায়ী,আগামী তিন বছরে হুয়াওয়ে ‘ওপেনল্যাবস’ তৈরিতে ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে যা ক্লাউড ডেভেলপারদের দক্ষ করে তুলবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইসিটি প্রতিভা গড়ে তুলবে বলে আশা করে হুয়াওয়ে।
জেমস উ বলেন: হুয়াওয়ে ডেভেলপারদের দক্ষতা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া তরুণ প্রতিভা বিকাশের দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখে। আমাদের ৩০ বছরেরও বেশি আইসিটি দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা আছে। এপিআই এবং ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা আমাদের আঞ্চলিক ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের কাছে আমাদের দক্ষতাগুলি উন্মোচন করবো। শিল্প ডিজিটাইজেশনের জন্য সুনির্দিষ্ট সমাধান তৈরি এবং নিজস্ব ব্যবসা বৃদ্ধি করতে ডেভেলপারদের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ।
এছাড়াও জেমস উ ‘হুয়াওয়ে ডেভেলপার চ্যালেঞ্জ ২০১৮’ ঘোষণা করেন, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ জুন থেকে চালু হবে। হুয়াওয়ে স্থানীয় ডেভেলপারদের নির্দেশনা প্রদানের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। উপরন্তু, ‘হুয়াওয়ে ক্লাউড’ উদ্ভাবনকারী ডেভেলপারদের হুয়াওয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করবে এবং নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করলে ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার থাকবে।








