মতামত

ত্রাণ চোরদের শাস্তি হয়েছে আদৌ?

Bags of rice stacked in a warehouse for distribution in Bangladesh. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

Numerous sacks of rice stacked in a warehouse, ready for distribution or sale in Bangladesh. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

ত্রাণ চুরির মহাউৎসব শুরু হয়েছে দেশে। করোনা যেন কারো কারো জন্যে সুখের বার্তা নিয়ে এসেছে। ত্রাণের চাল, ডাল, তেল চুরির খবর আসছে প্রতিদিনই সংবাদ মাধ্যমে। কারা চুরি করছে? সরকারের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রভাবশালী নেতৃবন্দ, সবাই মেতে উঠেছে চুরি উৎসবে।

সরকার নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা দিন আনে দিন খায় তাদের জন্যে ত্রাণ বরাদ্দ করেছে। সেগুলো বিতরণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জনপ্রতিনিধি আর সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের। আর সেই ত্রাণ চুরি করা শুরু হয়েছে। এর চেয়ে ঘৃণ্যতম কাজ আর কিইবা হতে পারে।

চাল চোরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

কারা সেই জনপ্রতিনিধি? তাদেরকে কারা মনোনয়ন দিয়েছিল? সেই প্রশ্নও আসতে পারে। আসাটাই স্বাভাবিক। তবে সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী আবার বলেছেন এরা সবাই বিএনপি-জাসদ বা জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে আসা লোকজন।

এই কথা বলে কি পার পাওয়া যাবে? এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন জাসদের ইনু সাহেব। তবে এভাবে ঢালাও কথা বললে এর তর্ক-বিতর্ক কোথাও গিয়ে শেষ হবে না। বের করতে হবে কারা এই চোরের দলে নাম লিখিয়েছে? তাদের মূল কোথায় রোপিত।

রওশন এরশাদ আবার বলেছেন এইসব ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীকে সংযুক্ত করতে। তাঁর কথায় যুক্তিটি এরকম- যখন দেশের কোনো আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কোনো বিষয় সামাল দিতে না পারে তখনই আমাদের সেনাবাহিনীর কথা ভাবতে হয়। অর্থাৎ সেনাবাহিনী সেই আস্থার জায়গাটা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যে, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্যে বরাদ্দ ত্রাণ তাদের মাধ্যমে বিতরণ করলে কোনো প্রকার চুরি হবার সম্ভাবনা থাকবে না।

করোনা মহামারীর সময় চোরের ছবি, চিত্রশিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদ. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

রওশন এরশাদের এ প্রস্তাবটিও আমাদেরকে কিছুটা ছোট করার মতো, অর্থাৎ যত চোর-ছ্যাচ্চর– এইসব জনপ্রতিনিধি আর সরকার দলীয় লোকজনের মধ্যেই।

এখন কথা হচ্ছে এই যে প্রায় প্রতিদিন চোরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি আমাদের চোখে পড়েনি। এর প্রধান কারণ হতে পারে- বর্তমানে করোনা নিয়ে সরকারের ভেতরে যে লেজেগোবরে অবস্থা-এ মুহূর্তে চাল চোরদের আর তেল চোরদের কি শাস্তি দেবে সেটা ভাবার সময় হয়তো কারো মধ্যে নেই।

তাই বলে কি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই কথাটি সত্য হয়ে দেখা দিচ্ছে-চাটার দল সব শেষ করে দিচ্ছে?

করোনা নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদেরও নাকানিচুবানি খাওয়ার মতো অবস্থা, বিষয়টি ঠিক আছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে যে মানুষটির দিন আনে দিন খায় অবস্থা সেই মানুষটির জন্যে সরকার নির্ধারিত ত্রাণ সে ঠিকমত পাচ্ছে কি না সেটি দেখার দায়িত্ব সরকারি লোকজনের ওপরই বর্তায়। তার সেই ত্রাণ সরকারের লোকজন যখন চুরি করে খাচ্ছে তখন সরকারের জন্যে বিষয়টি লজ্জার।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের উচিত এখনই শক্ত হাতে এই চোরদের দমন এবং শাস্তি বিধান করা। কারণ সামনের দিনগুলো আরও খারাপ হবার সম্ভাবনা আছে, যখন মানুষের পেটে খাওয়া থাকবে না তখন তার বিবেকবুদ্ধি বলে কিছু থাকবে না। সে জানবে চুরি-ডাকাতি, খুন রাহাজানি সমাজ গর্হিত কাজ, সেটা জেনেও করতে দ্বিধাবোধ করবে না। কারণ তার ঘরে খাওয়া নেই। ক্ষুধার জ্বালায় শিশু কাঁদছে। সেই কান্না সহ্য করা সহজ না। তাই সেই অবস্থা তৈরি হবার আগেই এই ত্রাণ চোরদের কঠিন হাতে দমন করা প্রয়োজন।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিষয়:করোনাভাইরাস চাল চোর

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…