(১)
পাখিটির কণ্ঠে শক্তি নেই তবে তার চোখে বাঘের দ্যুতি। তাকে প্রশ্ন করা হলো, সাগরের কি খবর? সে বলল ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’। তাকে প্রশ্ন করা হল তবে, কেন, কখন? সে উত্তর দিল ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’। তাকে প্রশ্ন করা হল, কবে পারবেন, না পারলে ছেড়ে দেন। সে উত্তর দিল বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন।
পাখিটার নাম ডানাকাটা পাখি
(২)
ষোল কোটি দ্বিপদ প্রাণীকে পাঞ্জাবী পরিয়ে রেখেছ, বাঙালি করোনি হে উট পাখি। একটি ময়নাপাখি বড় একাকী, পিঞ্জরে বন্দী। তার দিকে তেড়ে আসছে বটমলেস দর্জি। আবারো সিঁড়িতে দেখা দেবে রক্তের ধারা। যে রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে বঙ্গোপসাগর গিয়ে ভাসতে থাকবে, ‘দে দোল দোল দোল’। অতঃপর নেতারা দলে দলে যাবে বাংলাদেশ বেতার অফিসে। সেখানে গিয়ে যে যার মতো করে জানাবে বিচ্ছিন্ন আনুগত্য। ইতিহাসের পাতা ঘূর্ণি হাওয়ায় আবারো উল্টে যাবে পৃষ্ঠা নম্বর এক কিংবা দুইয়ে।
আমাদের ইতিহাস পাঠ কখনো শেষ হবে না। 
(৩)
এক দেশে ছিল এক টিয়াপাখি। পাখিটির মাস্টার ছিল বেজায় চালাক। তার চোখে সব কিছু গাঁদা-ফুলের মতো ফুটে উঠত। একদিন এক পাখিকে সে শিখিয়েছিল ‘তুই রাজাকার, তুই রাজাকার’ তারপর রাজাকারেরা সব হুমড়ি খেয়ে পড়ল ঢাকনা বিহীন গর্তে। সেই মাষ্টার অসময়ে উড়ে গেল আকাশে। সেই থেকে এতিম পাখি ঘুরে বেড়ায় পথে ঘাটে। এখন সমাজে একজন ‘এ টি এম’ থেকে লক্ষ ‘এ টি এম’ জন্ম নিয়েছে। উপযুক্ত মাস্টার পেলে পাখিটিকে শেখানো যেতো, ‘তুই এ টি এম’ ‘তুই এ টি এম’
আমাদের লোকগুলো কেন অন্যরকম।
(৪)
তুমি মাতা। তুই জন্মদাতা। তুমি যতোটুকু পেরেছ শিক্ষা দিয়েছ। তারপর ছেড়ে দিয়েছ শিক্ষকের হাতে। আমরা শিক্ষকের হাত ধরে ধরে দোল খেয়েছি ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যানে। হিমালয়ের চূড়ায় দিয়েছি পাড়া, মহেঞ্জোদারো থেকে অস্ট্রিয়া ভিয়েনা। তার কাছ থেকে শিখেছি শূন্য থেকে একশো গড়ার কৌশল। তিনি শিখিয়েছেন সাদা কেন সাদা। লাল কেন লাল। খুব শক্ত করে চেপে রেখেছিলেন তিনি আমাদের হাত। আজ তার হাতের নিচে আমি নেই। আছে নিজস্ব দুটি কান। স্যার আপনি এবার বসুন, ওরা না বললেও বসুন।
নব্বই ভাগ চিল এসে নিয়ে গেছে একজোড়া কান। শকুনেরা আজ ভাতে মরা তারা দেখে চিলদের ঐকতান।
দিকে দিকে একি শুনি / কটূক্তির জয়ধ্বনি
তোমার আমার ঠিকানা / অবমাননা অবমাননা
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








