এক সময়ের বেশ শক্তিশালী উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (সংযুক্ত মুক্তি বাহিনী, আসাম) এখন তেমন কোনো তৎপরতা নেই।আগে নিরাপত্তার বাহিনীসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালালে গত কয়েক বছরে কোনো হামলা হয়নি।
ভারতের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার বাহিনী কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও দলের শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশ গ্রেফতার বা আত্মগোপনে থাকায় তৎপরতায় ভাটা পড়ে।
উলফা ভারত ফেডারেশন থেকে আসামের সার্বভৌমত্ব দাবি করে সশস্ত্র লড়াই করছে। ভারত সরকার ১৯৯০ সালে সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
উলফা এপ্রিল ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা ও কমান্ডার-ইন চিফ করেন পরেশ বড়ুয়া। বর্তমান অভিজিত আসম। সদস্য সংখ্যা ১০ হাজার কথা উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে কতজন আছেন তা অনিশ্চিত।
বিভিন্ন তথ্যানুসারে ১৯৮৩ সালে গঠিত নাগাল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী সমাজতান্ত্রিক কাউন্সিলের সঙ্গে উলফা সম্পর্কিত। এছাড়াও ১৯৮৭ সালে বার্মার কেআইএ (কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মি)-এর সঙ্গেও উলফা সম্পর্কিত।
১৯৯০ সালের দিকে সংগঠনটি সশস্ত্রভাবে সক্রিয় হওয়া শুরু করে। ভারতের সেনাবাহিনী ১৯৯০ সাল থেকেই উলফার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এখন পর্যন্ত উলফা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে চলা সংঘর্ষে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
২০০৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও ডেপুটি-কমান্ডার-ইন-চিফকে ভারতীয় তদন্তের সম্মুখীন করা হয়।
উলফা নেতাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে আত্মগোপনে চলে আসে এবং কেউ কেউ বাংলাদেশ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। যার মধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া অন্যতম।
উলফা সর্বশেষ বড় হামলা চালায় ২০০৭ সালে জানুয়ারিতে। গোহাটিতে চালানো ওই হামলায় ৬২ জন নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই ছিলেন হিন্দিভাষী বিহারী। একই বছর ১৫ মার্চ আরো একটি হামলা চালায় উলফা। তবে এই হামলায় ছয়জন আহত হলেও কেউ নিহত হয়নি।
এর আগে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে দুটি হামলায় চালায় উলফা। তবে ২০০৭ সালের পর আর তেমন কোনো হামলা চালায়নি তারা। এসময় তাদের অন্য কোনো কার্যক্রমও লক্ষ্য করা যায়নি।
অপরদিকে পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন একটি অংশ পূর্বের দাবিতেই অটল থাকে। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের আটক থাকায় এবং নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরের কোন্দলের কারণে ধীরে ধীরে আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে। পদে থাকলেও দলের ভেতরে তার প্রভাব কতটা আছে তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকরা।
২০১০ সালের জানুয়ারিতে উলফার একটি অংশ তাদের নমনীয় অবস্থান ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরে স্বাধীনতার দাবি থেকে ফিরে আসে এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নেন।
২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর উলফার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা না করার জন্য ভারত সরকার, আসাম সরকার ও উলফার মধ্যে একটি ত্রিমুখী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির পর থেকেই তৎপরতা কমে যায় উলফার।






