তুষার ইমরানের এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তির পর বড় লিডই পেয়েছিল সাউথ জোন। ৪১৫ রানের লক্ষ্য দিয়ে ইস্ট জোনকে চাপে রেখেছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষকে অলআউটের জন্য হাতে ছিল ৫০ ওভারেরও কম। ভড়কে না গিয়ে লিটন দাস ও আফিফ হোসেনের সেঞ্চুরিতে সময়টা আবার দাপটের সঙ্গেই পার করেছে ইস্টরা। তাতে ড্র ম্যাচে অর্জন ওই ব্যক্তিগত শতকগুলোই।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ইস্ট জোনের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪০৩ রান তোলে সাউথরা। পরে ইস্টরা তোলে ৩০০ রান। শেষদিনে সাউথ জোন ৭ উইকেটে ৩১১ রানে থেকে ইনিংস ঘোষণা করে। তাতে ইস্টের সামনে ৪১৫ রানের লক্ষ্য দিতে পারে তুষারের দল।
জবাবটা দারুণ দিচ্ছিল ইস্টরা। ইমতিয়াজ হোসেনকে (৯) হারিয়ে শুরুর পর লিটন ও আফিফে ২০৫ রানের জুটি পায় তারা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১১৩ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন। ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ১২৯ বলের ইনিংস।
আফিফ তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় প্রথম শ্রেণির শতক। ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ১৩১ বলে ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন। তাতে ইস্টরা ৪৫ ওভারে এক উইকেটে ২২৪ রান তোলার পর ম্যাচে ড্র আসে।
সকালে ১০৩ রানে আহত অবসরে যাওয়া ইনিংস খেলে তুষার ইতিহাসে ঢুকে যান। ক্যারিয়ারে প্রথমবার এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন। ১৪৫ বলে সাজিয়েছেন ১২ চার ও ২ ছক্কায় ইনিংস।
২৯ রানে অপরাজিত থেকে আগেরদিন শুরু করা সৌম্য সরকার ৩৫ রানে সাজঘরে হাঁটা দেন। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৯২ বলে ৬৬ রানের ইনিংস এসেছে মোহাম্মদ মিঠুনের থেকে।
তুষার প্রথম ইনিংসে ১৩০ রান করে সাউথকে এনে দিয়েছিলেন লড়াকু পুঁজি। পরে বোলারদের নৈপুণ্যে দল পায় ১০৩ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের যখন বিপর্যয়, ব্যাট হাতে আরেকবার উইকেটে জমে যান। ৪৬ রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিন শেষ করেন। শুক্রবারও তাকে আউট করতে পারেনি প্রতিপক্ষ। ১০৩ রান করে আহত অবসর নিয়েছেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সংখ্যায় বাংলাদেশে তুষারের ধারে কাছেও কেউ নেই। বিসিএলের চতুর্থ রাউন্ডে জোড়া সেঞ্চুরি করে নিজেকে আরেকধাপ উচ্চতায়ই নিয়ে গেলেন ৩৪ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। তার ২৮ নম্বর সেঞ্চুরি এটি।
বেশি সেঞ্চুরি তো অবশ্যই, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রানের মালিকও তুষার। বিসিএলে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হলেন। আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জোড়া সেঞ্চুরি দেখল ১২তম বারের মতো।








