বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে সোচ্চার সংগঠনগুলো মনে করছে,
তুরস্কে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) জামায়াতে
ইসলামের ‘জ্ঞাতি ভাই’ বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং ফাঁসিতে
‘রাষ্ট্রীয়ভাবে অতি প্রতিক্রিয়া’ দেখাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং
এর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগটাও খুব পুরনো বলে মন্তব্য করেছেন
তারা।
তারা বলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং ফাঁসি নিয়ে শুরু থেকেই নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে পাকিস্তান। শুরু থেকে ওজর-আপত্তি করা তুরস্কও এবার নিজের চেহারা পুরোটাই প্রকাশ করেছে।
নিজামীর ফাঁসির রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর তুরস্ক তার অবস্থান এতোটাই খোলাসা করে যে, নিজেদের সরকারি ওয়েবসাইটে ‘ফ্রি নিজামী’ নামে ক্যাম্পেইনও চালায়। নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের পর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকেই প্রত্যাহার করে নেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তুরস্কের এই মাথা ব্যথার কারণ কি?
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, তুরস্কে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় রয়েছে সেই জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) হচ্ছে জামায়াতে ইসলামের জ্ঞাতি ভাই। সুতরাং এদেশের জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগটাও খুব কম ছিলো না।
‘জামায়াতের নেতারা প্রায়ই তুরস্কে যাচ্ছেন এবং তাদের বোঝাচ্ছেন যে, বিচারের নামে এদেশে তাদের নানানভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা এসব কথা বিশ্বাসও করছেন এবং সেভাবেই সব বিবৃতি দিচ্ছেন।’
‘তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এভাবেই বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীর বিচারকে দেখেছেন,’ মন্তব্য করে তিনি একে দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে বলেন, তুরস্কের দলীয় একটি সিদ্ধান্তের বহি:প্রকাশ তাদের এমন সব মন্তব্য।
তবে তাদের জনগণ কিন্তু এত কিছু বোঝে না উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির বলেন: আমি অনেকবার তুরস্কে গেছি। আমি দেখেছি ওখানকার বুদ্ধিজীবীরা এই ব্যাপারটা ভালোভাবেই বোঝেন। তাদেরও মন্তব্য, যে দেশের যুদ্ধাপরাধী সেই দেশ বিচার করছে, সেটা নিয়ে তুরস্কের এত মাথা ব্যথার কি আছে!
মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ বিষয়ক এই গবেষক বলেন, এমন আচরণের মধ্য দিয়ে তুরস্ক যে তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিচ্ছে সেটা তাদের জনগণের বোঝা দরকার। কামাল আতাতুর্কের যে ভাবমূর্তি সেটাও যে নষ্ট হবে তাও সেখানকার জনগণকে বোঝানো দরকার।
তিনি বলেন: এতদিন মনে করা হতো তুরস্ক একটি স্বাধীন ও সার্বভোম রাষ্ট্র, কিন্তু এমন সব মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মনে হয় তুরস্ক মিশরেরই একটি অংশ।
মিশর হচ্ছে সেই দেশ যেখানে মুসলিম ব্রাদারহুড বা ইখওয়ানুল মুসলিমিন প্রথম জেহাদি কার্যক্রম শুরু করে। হাসান আল বান্না এবং সাইয়েদ কুতুবের মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শেই আবুল আলা মওদুদী ভারতীয় উপমহাদেশে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন, আর তুরস্কে প্রতিষ্ঠিত হয় জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
শাহরিয়ার কবির বলেন: বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীর বিচার সংক্রান্ত তুরস্কের নানা বিবৃতি ওই জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির দলীয় সিদ্ধান্ত। এটা পুরো দেশের সিদ্ধান্ত নয়।
‘তাছাড়া ওখানকার বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, তারা মনে করে, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তুরস্কের নাক গলানোর কিছু নেই।’








