পঞ্চম দিনের চা বিরতি পর্যন্ত মনে হচ্ছিল ম্যাচটা বুঝি বাঁচিয়েই ফেলছে সাউথ আফ্রিকা। ৩০ ওভার বাকি, হাতে ৫ উইকেট, সেট দুই ব্যাটসম্যান, সেশনটা পার করে দিলেই কাজের কাজটা হয়ে যেত। সেটা হতে দিলেন না বেন স্টোকস। পেস ছোবলে স্বাগতিকদের লেজ মুড়িয়ে ইংল্যান্ডকে এনে দিলেন রুদ্ধশ্বাস এক জয়।
৪৩৮ রানের বিশাল লক্ষ্যের বিপরীতে সাবধানে চলো নীতিতে কেপটাউন টেস্টে ড্রয়ের খুব কাছে চলে গিয়েছিল প্রোটিয়ারা। পিটার মালান ও কুইন্টন ডি ককের ব্যাটে চড়ে ম্যাচটা যখন প্রায় বাঁচিয়ে ফেলার অপেক্ষায় তারা, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৮৯ রানের বিশাল জয়ে চার টেস্টের সিরিজে ১-১’এ সমতা ফিরিয়েছে সফরকারী ইংল্যান্ড। ব্যাটে-বলে অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা স্টোকস।
হাতে ৮ উইকেট নিয়ে ১২৬ রানে শেষদিনে খেলতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা প্রোটিয়াদের। আগের দিনের ২ রানের সঙ্গে কোনো রান যোগ না করেই জেমস অ্যান্ডারসনের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে নাইটওয়াচম্যান কেশব মহারাজ।
খুব বেশি রান করতে পারেননি অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিস। অবশ্য সাউথ আফ্রিকা যে ম্যাচ জেতার জন্য লড়ছে না সেটা ডু প্লেসিসই বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। ৫৭ বল খেলে করে গেছেন মাত্র ১৯ রান।
লাঞ্চের পর সাউথ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় ধাক্কা ওপেনার মালানের উইকেট হারানো। ধৈর্যের প্রতিমূর্তিতে উইকেটে চীনের প্রাচীর হয়েছিলেন অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান। ২৮৮ বল খেলে ৮৪ রান করা ডানহাতিকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় সেশনে ইংল্যান্ডকে একমাত্র সাফল্য এনে দেন স্যাম কারেন।
এরপরও সাউথ আফ্রিকাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন রসি ফন ডার ডুসেন ও কুইন্টন ডি কক। ডি কক তার মতোই খেলে তুলে নেন ফিফটি। অবশ্য ফিফটির পরেই ঘটে সর্বনাশ, জোন ডেনলির বলে ১০৭ বলে ৫০ করে ক্যাচ দেন জ্যাক ক্রোলির হাতে।
ডি কক ফেরার পর অবসান ঘটে ফন ডার ডুসেনের প্রতিরোধও। ১৭ রান করতে ১৪০ বল খেলে গেছেন এ মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান, স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে ক্যাচ দিয়েছেন জেমস অ্যান্ডারসসের হাতে।
ডি কক-ডুসেন ফেরার পর দ্রুতই ৩ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াদের শেষ করে দিয়েছেন বেন স্টোকস। এরমধ্যে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও অ্যানরিচ নর্তেকে ফিরিয়েছেন এক ওভারে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২ রান ও এই ৩ উইকেট নেয়ায় ডম সিবলিকে টপকে ম্যাচসেরা হতে সমস্যা হয়নি দেশকে বিশ্বকাপ জেতানো অলরাউন্ডারের।









