ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তীব্র বায়ুদূষণের কারণে প্রাং ১৮শ প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী প্রায় ৯ লাখ।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে ‘মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অব দিল্লি’র মুখপাত্র যোগেন্দ্র মান জানান, দূষণের কারণে সাময়িকভাবে স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে, যেন ছেলেমেয়েদের বাইরে যেতে না হয়। তবে সোমবার থেকে আবার স্বাভাবিকভাবে স্কুলের কার্যক্রম চলবে।
গত সপ্তাহে দীপাবলী উৎসবে ব্যাপক আতশবাজীর কারণে পরদিন থেকেই তীব্র ধোঁয়া আর সূক্ষ্ম কণিকায় ভরে ওঠে দিল্লির বাতাস। কুয়াশার চেয়ে ঘন সেই দূষণে ভরদুপুরেও সন্ধ্যার মতো অন্ধকার হয়ে যায় পুরো রাজধানী।
কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, এই ‘স্মগ’ বা ধোঁয়াশা না কমে আরও গাঢ় হচ্ছে। বাতাসে যে পরিমাণ কণিকা থাকা নিরাপদ তার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি কণিকায় ছেয়ে আছে দিল্লি।আর এই অতিরিক্ত দূষণের ফলে দিল্লিবাসী শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরণের সমস্যায় ভুগছে।
নগরীর দূষণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, দিল্লির বাতাসে শনিবার সকাল ৯টার দিকে প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ১২শ’ মাইক্রোগ্রামেরও বেশি ভারী পদার্থের কণিকা রয়েছে। যেখানে কণিকার নিরাপদ পরিমাণ ধরা হয় সর্বোচ্চ ১শ’ মাইক্রোগ্রাম। দিল্লির আনন্দ বিহার এলাকায় বাতাস পরীক্ষা করে এ তথ্য পাওয়া যায়।
পিএম ১০ শ্রেণীর এই ভারী কণিকার উপস্থিতি বেশি হলে তা শ্বাসযন্ত্রের নানা ধরণের রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
দ্রুত নগরায়নের কাজে ডিজেল ইঞ্জিন, কয়লা-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ শিল্পকারখানার বর্জ্য পদার্থ ও ধোঁয়া বাতাসে ছড়াচ্ছে খুব বেশি। ফলে দিল্লির বাতাসের অবস্থা গত কয়েক বছরে বেশ খারাপ হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে আতশবাজি কম করতে অনুরোধ করা হলেও তা না মানার ফলে শহরটি এবার গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণের শিকার হলো।







