জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণার চার দিন পর সোমালিয়ায় তীব্র খরায় খাবার সংকট এবং পানি শূন্যতাজনিত অসুখে আক্রান্ত হয়ে গত দুই দিনে কমপক্ষে ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার রাজধানী মোগাদিসুতে দুর্যোগ মোকাবিলায় গঠিত কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাছান আলি খায়ের এ তথ্য জানান। এরআগে খরার কারণে সোমালিয়ায় জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহি ফারমাজো।
নিহতের বেশিরভাগই দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম উপসাগরের গ্রামাঞ্চলের। সেখানে খরার ক্ষয়-ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। সারাদেশের মৃতের সংখ্যা যোগ করলে এ সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তীব্র খরায় ক্ষুধা ও পানিশূন্যতার কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মরতে বসেছে অসংখ্য মানুষ এবং গৃহপালিত পশু। খাবার ও পানির অভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করা মানুষের নিদারুণ কষ্টের কথা দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছে দুর্যোগ মোকাবিলা কমিটি।

সম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে একেবারেই বৃষ্টি হয়নি এবং বেশিরভাগ নদী শুকিয়ে গেছে। তীব্র এই খরায় খাদ্য ও খাবার পানির চরম সংকটে পড়েছে দেশটির প্রায় ৬০ লক্ষাধিক মানুষ।
এই অবস্থা দুর্ভিক্ষের জন্ম দিতে পারে বলে এ সপ্তাহের শুরুতেই সতর্ক করেছিলেন সোমালিয়ার জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার সমন্বয়কারী পিটার ডে ক্লাক।
তিনি বলেন, যদি তাৎক্ষণিকভাবে খরা আক্রান্তদের সহায়তায় কিছু করা না যায় তাহলে অনেক মানুষ ও পশু-পাখির মৃত্যু হবে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে এই চরম পরিস্থিতিকেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। যদি তা না করতে পারি তাহলে এটি একটি বিপর্যয়ের দিকে যাবে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, পর পর দুই মৌসুম বৃষ্টি না হওয়ায় সোমালিয়ার এই খরার সৃষ্টি হয়েছে। খরায় আক্রান্ত এলাকাগুলোর পানি একেবারে শুকিয়ে গেছে। খাবার পানি ও খাদ্যের অভাবে মরতে বসা মানুষ খাবার-পানি কিনতে তাদের নিজস্ব সহায়-সম্বল বিক্রি করে দিচ্ছে।

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এজেন্সির তথ্য মতে, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সোমালিয়ার প্রায় দুই লক্ষ ৫৮ হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষে মারা গেছে। এই দুর্যোগের সময়ে সোমালিয়া বিশ্বের থেকে তেমন সহায়তা পায়নি। এ বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছে অক্সফাম।

শিশুদের পুষ্টির অবস্থা নিয়ে ইউনিসেফের করা এক তালিকায় দেখা গেছে, সোমালিয়া সেই চারটি দেশের একটি যেখানে দুর্ভিক্ষের কারণে চরম পুষ্টিহীনতায় ১০ লক্ষাধিক শিশু মারা যেতে পারে। এই তালিকার অন্য দেশগুলো হচ্ছে দক্ষিণ সুদান, নাইজেরিয়া এবং ইয়েমেন।








