পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ভারতের বাংলা ছবির এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। পাশাপাশি তিনি পরিচালনাও করছেন। অভিনয়গুণে শুধু বাংলা ছবিতে নয়, বলিউডের হিন্দি ছবির পরিচালকদের কাছেও তিনি নিজের চাহিদা তৈরি করতে পেরেছেন। ইদানিং বাংলাদেশ–ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবিতে তিনি অভিনয় করছেন। তাই বাংলাদেশে তার উপস্থিতি বেড়েছে। কাল শুক্রবার ‘ভুবন মাঝি’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে প্রেক্ষাগৃহে। সরকারি অনুদানে তৈরি হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ভুবন মাঝি’। পরিচালক ফাখরুল আরিফীন খান। ছবিটির সহ–প্রযোজক রিফলেক্ট মিডিয়া কমিউনিকেশন লি.। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকায় এসেছেন পরমব্রত। এসেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ছবির প্রচারণায়। সন্ধ্যায় অংশ নেন ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে। তার ফাঁকে কথা হলো চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে।
চ্যানেল আই অনলাইন : শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে ‘ভুবন মাঝি’। এই ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতার কথা বলুন।
‘ভুবন মাঝি’ আমার অভিনয়জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা। আমি একজন ভারতীয় হলেও একজন বাঙালীও বটে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমারও। ছবির গল্পে আমি যাকে ভালোবাসি, তার অনুপ্রেরণায় নানা পরিস্থিতির মধ্যে একজন সাধারণ মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার ঘটনাগুলো রয়েছে এই ছবিতে। কুষ্টিয়ায় এক মাসেরও বেশি সময় আমরা কাজ করেছি। এই অভিজ্ঞতা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
চ্যানেল আই অনলাইন : ছবির কোন অংশটি আপনার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছে?
জগতি স্টেশনের কিছু দৃশ্য ছিল। স্টেশনটি বানাতে হয়েছিল। এর প্রোডাকশন ডিজাইন আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছে। ‘আমি তোমারি নাম গাই’ গানটি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওপর ধারণ করা হয়। এই ধরনের দৃশ্য আমাদের ছবিগুলোতে এখন আর দেখা যায় না। ছবির আরেকটা জায়গা আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছে। সেটি হলো এই গানে একটা কোরাস ভার্সন আছে। সেটির সাউন্ড মিক্সিং হয়েছে কলকাতায় আমার স্টুডিওতে। গানের ভার্সনটি এত দারুণ হয়েছিল যে দেখতে দেখতে চোখে ভিজে গিয়েছিল।

চ্যানেল আই অনলাইন : বাংলাদেশে প্রথম কোনো ছবির প্রচারণা করছেন। কেমন লাগছে?
খুব ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় পার হচ্ছে। আজ (বুধবার) খুব ভোরে কলকাতার বাসা থেকে বের হয়েছি। সকালে ঢাকায় পৌছে প্রথম যা পেয়েছি, তা হলো যানজট। যানজট ঠেলে হোটেলে পৌঁছে ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হলো, এরপর প্রচারণা কাজ শুরু করেছি। বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি। এই কষ্ট কিন্তু কষ্ট মনে হচ্ছে না। কারণ এখানে এত মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে, তাদের সঙ্গে দেখা করে, কথা বলে সময় কোথা দিয়ে চলে যাচ্ছে, টেরই পাচ্ছি না।
চ্যানেল আই অনলাইন : আপনি তো ইমপ্রেসের টেলিফিল্মের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার একটি ছবিতে অভিনয় করছেন।
আমরা জানি ইমপ্রেস কলকাতার সঙ্গে মিলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছবি নির্মাণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘শঙ্খছিল’, ‘প্রেমাশুল’ এবং আরও কিছু কাজ করার কথা ভাবছে। আমি তাদের একটি ছবির অংশ হতে পেরে সৌভাগ্যবান মনে করছি। নতুন এ ছবির নাম ‘হলুদবনি’। পরিচালক মুকুল রায় চৌধুরী। ছবিতে আমার সঙ্গে অভিনয় করছেন বাংলাদেশের তিশা।
চ্যানেল আই অনলাইন : ছবিতে আপনার চরিত্রটি কেমন?
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। কাজের সন্ধানে একজন ভদ্রমহিলার সঙ্গে একটা জায়গায় যান। জায়গাটার নাম হলুদবনি। সেখানে গিয়ে একটা মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। এই চরিত্রটা তিশা করছেন।

চ্যানেল আই অনলাইন : তিশা সম্প্রতি বলিউডের অভিনেতা ইরফান খানের সঙ্গে একটি ছবির কাজ করেছেন। ছবির নাম ‘ডুব’। এখন আপনার সঙ্গে অভিনয় করবেন।
তিশা সম্পর্কে অনেকের কাছে শুনেছি। তার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন তারা। তার কিছু কাজ দেখেছি। এজন্য তিশার সঙ্গে অভিনয়ের জন্য মুখিয়ে আছি।
চ্যানেল আই অনলাইন : ‘হলুদবনি’ ছবির শুটিং কোথায় হবে?
ছবির কিছু অংশের কাজ কলকাতায় হবে। এর মধ্যে দুদিন শুটিং হয়েছে। বেশির ভাগ কাজ হবে ঝাড়খন্ডে। বাংলাদেশেও কাজ হবে।
চ্যানেল আই অনলাইন : যৌথ প্রযোজনার ছবি হচ্ছে। এর বাইরে বাজার বিনিময়ে দুই দেশের মাঝে তৎপরতা রয়েছে।
আমি মনে করি এটা দুই দেশের জন্য ভালো। আমি জানি যৌথ প্রযোজনা নিয়ে কিছু মানুষের অভিযোগ আছে। আমি মনে করিনা এই অভিযোগ অসমীচিন। কিন্তু দুপক্ষই যেন সমানভাবে লাভবান হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

চ্যানেল আই অনলাইন : সংবাদ মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি পরিচালক হিসেবে আবারও নতুন ছবি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন।
স্ক্রিপ্ট লেখা শেষ হয়েছে। তবে এখনও অভিনয়শিল্পীরা চূড়ান্ত হয়নি। এ বছরই করব। তবে কবে নাগাদ হবে, তা এখনও বলতে পারব না। এই ছবিটা দুই অসম বয়সীর গল্প নিয়ে নির্মিত হবে। একজন সাত বছর বয়সী আর আরেকজন ৭০ বছর বয়সী।
চ্যানেল আই অনলাইন : ঋত্মিক ঘটকের নাতি আপনি। অভিনয় কিংবা নির্মাণ কি তারই ধারাবাহিকতায় পাওয়া?
আমি তাকে পাইনি। এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে অনেক কথা শোনা যায়। সেই সব কথা শুনে ও পরবর্তীকালে তার ছবি দেখে তার সম্পর্কে ধারণা জন্মেছে। আমার মা চিত্রসাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন। সেই হিসেবে তার কথা শুনে বা কাজ দেখে এবং মা-বাবার তৈরি করা পরিবেশের কারণেই ছবিতে আসতে পেরেছি।
চ্যানেল আই অনলাইন : নতুন কোনো ছবিতে কাজ করছেন?
তিনটি ছবির কাজ শেষ করলাম। এগুলো হলো ‘যখের ধন’, ‘সেনাপতি’ আর ‘সমান্তরাল’।
চ্যানেল আই অনলাইন : সেই অর্থে বাণিজ্যিক ছবিতে আপনাকে দেখা যায় না কেন?
বাণিজ্যিক ছবি বলতে বাংলায় আমরা যা বুঝি, তা হলো সাউথ ইন্ডিয়ান ছবির রিমেক। এই ধরনের ছবির সঙ্গে আসলে আমার যায় না অথবা সেই পরিবেশে আমি বড় হইনি। দুই বাংলা মিলিয়ে অজস্র গল্প আছে। এসব গল্পে যৌথ প্রযোজনায় বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করা যায়।
চ্যানেল আই অনলাইন : বলিউডের কোনো ছবিতে কাজ করছেন?
নিয়মিত না হলেও করছি। সামনে কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অভিনয় করতে পারি।
চ্যানেল আই অনলাইন : কলকাতার ছবির ওপর বলিউডের প্রভাব কেমন?
বলিউডের ছবির সঙ্গে আমাদের পাশাপাশিই চলতে হয়। এটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। বলিউডের চাকচিক্যের মধ্যেই চেষ্টা করি দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে এনে আমাদের ছবি দেখাতে।

চ্যানেল আই অনলাইন : বলা হয় অভিনেতা হিসেবে আপনি নিখুঁত, নির্মাতা হিসেবে মোটামুটি। এ বিষয়ে আপনি কী বলেন?
আসলে আমি অভিনেতা হিসেবে যতটুকু প্রমাণিত, নির্মাতা হিসেবে ততটুকু নই। আমার অভিনীত ছবির সংখ্যা ৪০। আমার পরিচালিত প্রথম দুটি ছবি বাজার হিসেবে ভালো না করলেও ‘হাওয়া বদল’ কিন্তু খারাপ করেনি। যেহেতু ছবি নির্মাণ আমার প্যাশন। ছবি নির্মাণ নিয়ে পড়াশোনাও করেছি, তাই আশা করছি অতীতে আমার নির্মিত ছবিগুলোতে যে ভুলগুলো হয়েছিল, ভবিষ্যতে তা হবে না।
চ্যানেল আই অনলাইন : একজন অভিনেতা হতে হলে শুরুতেই কোন গুণটা থাকতে হবে?
প্রত্যেক শিল্পের মাধ্যম থাকে। ছবির অভিনয়শিল্পীরও একটা মাধ্যম আছে। আমার মনে হয় ক্যামেরার অবস্থান, লেন্স পরিবর্তন অর্থাৎ ছবিতে ক্যামেরার মুভমেন্ট সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। ক্যামেরার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা ছবির অভিনয়শিল্পীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
চ্যানেল আই অনলাইন: আপনাকে ধন্যবাদ। অনেক ব্যস্ততার মাঝে আমাদের সময় দিয়েছেন।
আপনাকেও ধন্যবাদ। আর চ্যানেল আই অনলাইনের মাধ্যমে আমরা এ দেশের দর্শকদের ‘ভুবন মাঝি’ ছবিটি দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
আলোকচিত্রী: সাকিব উল ইসলাম
‘ভূবন মাঝি’ ছবির দ্বিতীয় টিজার দেখুন
https://www.youtube.com/watch?v=2tS68WPX-Mc







