তিন বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা, রানা প্লাজা ধসের দুই মামলার এখনো বিচারই শুরু হয়নি। দুই বছরের বেশি সময় তদন্তের পর গত বছরের ১ জুন চার্জশিট হলেও এখনো আদালতে অভিযোগ গঠন হয়নি। কিছু আইনি প্রক্রিয়ার কারণেই এই বিলম্ব বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে রাজধানীর উপকন্ঠে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে ৮ তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপে। নিহত হয় ১ হাজার ১শ’ ৩৭ জন। জীবিত উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪শ’ ৩৮ জনকে। যাদের প্রায় অর্ধেক চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
ভবন ধসের পরদিন সাভার থানায় হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনে দুটি মামলা হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিকে। ঘটনার দুই বছর ১ মাস পর রানাসহ ৪২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে দুই মামলার চার্জশিট দেয় সিআইডি। সেই চার্জশিট গ্রহণ করা হলেও আজও মামলার বিচারই শুরু হয়নি।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারুল কবীর বাবুল বলেন, অনেক স্বাক্ষী প্রমাণের বিষয় ছিল যেগুলো মামলার তদন্ত সংস্থার সংগ্রহ করতে সময় লেগেছে। এবং পরবর্তী কালে মামলায় যেন কোনো খুঁত না থাকে অর্থাৎ প্রাক বিচার কার্যে যেনো সুষ্ঠুভাবে সম্পূ্র্ণ হয় এ জন্য প্রাক বিচার কার্যক্রমে যে আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে সেগুলো বিজ্ঞ আদালত শেষ করেছে। আগামী ২৮ এপ্রিল মামলা দু’টোতে আসামীদের হাজির করা হবে।এবং আমরা আশা করছি এ মামলায় চার্জ গঠন শুনানী শেষ হবার পরই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়ে যাবে।
দুই মামলায় প্রধান আসামী রানাসহ ৭ জন কারাগারে থাকলেও পলাতক ১২ জন ছাড়া বাকি সবাই জামিনে। তবে এতে মামলা ক্ষতিগ্রস্থ হবে না বলে মনে করে রাষ্ট্রপক্ষ।
আনোয়ারুল কবীব বাবুল আরও বলেন, আমাদের রাষ্টপক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করতে পারি, জামিনের যদি শর্ত ভঙ্গ করে।
সাভারে ধসে যাওয়া রানা প্লাজার জায়গাটিতে এখন থৈ থৈ পানি। সেখানে এসে চোখের পানিও ফেলতে দেখা যায় অনেককে। 
ভুক্তভোগীরা জানায় যারা এ ধসের পেছনে দায়ী তাদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে বিচার করা, তবে তারা অভিযোগও করছেন যে বিচার তিন বছরেও শুরু হয়নি সেই বিচার শেষ হবে কবে।
পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না পেলেও অন্তত বিচারটুকু দেখে যেতে চান নিহত-আহতদের স্বজনরা।







