কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গ্রেপ্তারকৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তারিকুল ইসলামের এর ওপর নির্যাতন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে আইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।
সোমবার সকাল ১০ টায় কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন হয়। এর আগে সকাল নয়টায় অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনটিতে প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত তারিকুল বর্তমানে শাহবাগ থানায় ৫ দিনের রিমান্ডে আছেন।
মানববন্ধনটিতে সংহতি জানিয়ে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাইমা হক বলেন,‘তারিকুল এই বিভাগের শিক্ষার্থী। তাই শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবির সাথে একমত হয়ে আমরা তাদের সাথে সংহতি জানাচ্ছি।’
অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান,তারিকুলকে একটি ন্যায্য দাবির আন্দোলন থেকে ছাত্রলীগ মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এরপরে একটি পুরোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যেটা পুরোপুরি অসঙ্গতিপূর্ণ। এরকম একটা ঘটনায় আমরা বিবেকবান মানুষ হিসেবে চুপ করে থাকতে পারি না।তাই শিক্ষার্থীদের সাথে এখানে এসে দাঁড়িয়েছি।
আসিফ নজরুল আরো বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে এরকম ঘটনা ঘটছে। ছাত্রলীগের মারধরে সাথে সাথে পুলিশী নির্যাতন চলছে। অবিলম্বে এসব বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়া হোক।
মানববন্ধনটিতে উপস্থিত থাকা তারিকুলের বাবা সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার শফিকুল ইসলাম কান্নারত অবস্থায় জানান,আমার ছেলে কোন দোষ করেনি। তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। আমি আমার ছেলের বিরুদ্ধে এই অন্যায়ের সুরাহা চাই।
বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, তারেকের সাংবিধানিক অধিকার লুণ্ঠিত করে আটকে রাখা হয়েছে তাকে। আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আর অবিলম্বে তারেকের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানাই।
দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, তারেক (তরিকুল) আমাদের সহপাঠী। আমরা তাকে ছাড়া ক্লাস পরীক্ষায় বসবো না।
মানবন্ধনটিতে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শাহনাজ হুদা, অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের,অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান,সহযোগী অধ্যাপক আরিফ জামিল ও প্রভাষক প্রিয়াংকা বোস কান্তা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র তারিকুলকে গত ২ জুলাই সোমবারে শহীদ মিনারে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে ছাত্রলীগ তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ঢাবি ভিসির বাসভবন ভাংচুর মামলায় কেরানীগঞ্জ থানায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।








