চট্টগ্রাম থেকে: চলতি বছর টেস্টে সর্বোচ্চ চারটি সেঞ্চুরি ছিল বিরাট কোহলির। বৃহস্পতিবার কোহলির পাশে নাম লিখিয়েছেন মুমিনুল হক। ২০১৮ সালে দুটির বেশি সেঞ্চুরি করতে পারেননি আর কেউ। মুমিনুল বছরের চতুর্থ সেঞ্চুরিটি পেয়েছেন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। খেলেছেন ১২০ রানের ইনিংস। তাতে এক কাতারে মুমিনুল-কোহলি!
টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম আর এক ভেন্যুতে টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি পাওয়ার দিন মুমিনুল ছাড়িয়ে যান তামিম ইকবালকে। বাংলাদেশের হয়ে এক বছরে টাইগার ওপেনারের সর্বোচ্চ তিনটি সেঞ্চুরি ছিল। ২০১০ সালে গড়া সেঞ্চুরির সেই রেকর্ড পেছনে ফেলেছেন মুমিনুল। টাইগার বাঁহাতিকে নিয়ে আলোচনা-প্রশংসা তাই তুঙ্গে।
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম-কোহলির প্রসঙ্গ এলো। তাদের সঙ্গে তুলনা করার বিষয়টিতে অবশ্য আপত্তিই জানালেন মুমিনুল, ‘তামিম ভাইয়ের সাথে তুলনা করার প্রশ্নই আসে না। তিনি আমাদের দেশের, ক্রিকেট বিশ্বের অন্য পর্যায়ের ব্যাটসম্যান। আমার কাছে মনে হয় তুলনা করা ঠিক না। আর বিরাট কোহলি তো আরও উঁচুতে। এইসব(সমান সেঞ্চুরি) নিয়ে আমি চিন্তা করি না।’
জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর বাদ দিলে বছরটি দারুণ কাটাচ্ছেন মুমিনুল। ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই করেন জোড়া সেঞ্চুরি। প্রথম ইনিংসে ১৭৬, দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রান। আগের ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে খেলেন ১৬১ রানের ইনিংস। ঢাকা থেকে পয়মন্ত ভেন্যু চট্টগ্রাম এসে আবারও সেঞ্চুরি।
ফর্ম ফিরে পাওয়া মুমিনুল বছরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় উঠে এসেছেন সাত নম্বরে। ৭ ম্যাচে ১৩ ইনিংস খেলা এ বাঁহাতির রান ৬৩২। শীর্ষে আছেন কোহলি (১০৬৩)। ১০ ম্যাচ খেলা এ ভারতীয় ব্যাট করেছেন ১৮ ইনিংস।
বছরের শেষভাগে এসে মুমিনুলের সামনে আছে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস ও সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। সামনের তিন ইনিংসে কোহলিকে ছাড়ানো কঠিন হলেও দ্বিতীয় স্থানে থাকা খুব দূরের পথ নয়। ১২ টেস্টে ২২ ইনিংস খেলা ইংল্যান্ডের জো রুট দ্বিতীয় স্থানে ৮৯৫ রান নিয়ে।
সোনাফলা বছরটা নিয়ে কী ভাবছেন মুমিনুল? ‘বছর তো এখনও শেষ হয়নি। এখনও দ্বিতীয় ইনিংস বাকি আছে, দ্বিতীয় টেস্ট বাকি আছে। ওইভাবে চিন্তা(শীর্ষে ওঠা) না করে সবসময় চিন্তা করি একটু উন্নতি করার, দলের জন্য ভালো করার।’







