তাইওয়ান পার্লামেন্টে একটি বিতর্ক অধিবেশনের জের ধরে অধিবেশন চলাকালেই দুই নারী এমপি প্রথম ঝগড়া, তারপর হাতাহাতি এবং শেষে পুরোদস্তুর মারামারিতে লিপ্ত হন। তখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অধিবেশনের সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে অবকাঠামোগত সংস্কার ইস্যুতে বিতর্ক চলাকালে রাষ্ট্রপতি সাই ইং-ওয়েনের প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ করেন বিরোধী দল কুয়োমিনটাং (কেএমটি)-এর এমপিরা।
ওই সময় সরকারি দল ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি)-এর আইনপ্রণেতা চিউ য়ি-য়িং (৪৬) আসন ছেড়ে উঠে প্রতিবাদরত এমপিদের কাছে গিয়ে তর্ক শুরু করেন। কেএমটি’র এমপি সু শু-হুয়া (৪১) একইভাবে তর্কের জবাব দিতে শুরু করেন।
দুই নারীর তর্ক-বিতর্ক এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়।শু-হুয়া এক পর্যায়ে চিউয়ের গালে চড়ও কষে দেন। দুই দলের অন্যান্য এমপি এবং উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মীরা টেনে মারপিটরত এমপিদের আলাদা করার চেষ্টা করেন।
ডেইলি মেইল জানায়, ওই অবস্থায় অধিবেশন প্রধান সু চিয়া-চিউয়ান বারবার সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানাতে থাকেন। তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়: ‘সবাই কিন্তু দেখছে।’
তাইওয়ান সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে ৪২০ বিলিয়ন টাইওয়ানিজ ডলার বা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দেয়া হলেই কেমএমটি’র মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, ডিপিপি’র প্রতি রাজনৈতিকভাবে বিশ্বস্ত শহর এবং অঞ্চলগুলোতেই কেবল এই উন্নয়ন হতে যাচ্ছে। এই তর্ক-বিতর্কের জের ধরেই ওই দুই নারী এমপির মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর অধিবেশন মুলতবি করে দেয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে পুরো দেশজুড়ে মারপিটের এ ঘটনা সবাই দেখে ফেলেছে। খবরের শিরোনাম হয়েই ঘুরতে থাকে পার্লামেন্টের ঘটনাটি সারাদিন।
চিউ স্থানীয় গণমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন, শু-হুয়া এবং কেএমটি’র আরেক নারী এমপি তাকে আঘাত করেছেন এবং এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিয়েছে।
অন্যদিকে সু শু-হুয়া বলেছেন, তিনি নিজ আচরণের জন্য দুঃখিত। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে এজন্য চিউয়ের কাছে ক্ষমা চাইবেন না। কারণ তিনি মনে করেন, চিউকে তিনি কোনোভাবে অসম্মান করেননি।







