ইয়েমেনের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পৃথক হামলায় দেশটির সরকারি বাহিনীর অন্তত ৩০ সেনা নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক সেনাসদস্য। ২০২২ সালের অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির পর এটিকে দেশটির অন্যতম বড় সামরিক সংঘর্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী হামলার ঘটনা স্বীকার করে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহত ও আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি হুথি বিদ্রোহীরা। তবে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক বড় ধরনের সামরিক অভিযানের বিষয়ে শিগগিরই একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।
২০২২ সালের এপ্রিলে কার্যকর হওয়া অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির পর এটি সবচেয়ে গুরুতর সহিংসতার ঘটনা। ওই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে দীর্ঘদিনের লড়াই অনেকটাই থেমে গিয়েছিল।
২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সৌদি আরবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর পরের বছর সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত এখন কার্যত কোনো পক্ষের সুস্পষ্ট বিজয় ছাড়াই অচলাবস্থার প্রক্সি যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।

