সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত তদারকির জন্য সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দকে প্রধান করে ৬ সদস্যর কমিটি গঠন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদর দপ্তর।
যতদ্রুত সম্ভব চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির তদন্ত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের। ইতোমধ্যেই স্পর্শকাতর এ মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
আলোচিত এ হত্যা মামলাটি নিয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মন্তব্যের পরেই দিনই এমন সিদ্ধান্ত নিলো সিআইডি।
শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রচলিত আইন দিয়ে তনু হত্যার তদন্ত সম্ভব নয়, এই জন্য প্রয়োজন আইন পরিবর্তনের।
মামলাটির তদন্ত নিয়ে নিজের ব্যাখ্যায় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘কুমিল্লায় এটা অপরাধ হয়েছে। এটা আপনি ১৮৯৮ সালের ক্রিমিনাল প্রসিডিওর
কোর্ট দিয়ে তদন্ত করতে পারবেন না। এটা নতুন ডিজিটালাইজ ওয়েতে নতুন পন্থায়
এটার ইনভেস্টিগেশন করতে হবে। আমরা যতই মিটিং-মিছিল করি, আমাদের, আমাদের
পুলিশ অফিসারদের যে মানসিকতা সেসব দিয়ে এটা ডিটেক্ট করা যাবে না। সাংবাদিক
দম্পতি যেমন ডিটেক্ট করা যায়নি তেমনই যাবে না।’
তনু হত্যায় জড়িত কেউ আটক না গেলেও ছায়া তদন্ত করেছে র্যাব। তদন্তকাজে সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীও। প্রাথমিকভাবে তনুর পরিবারের সদস্যসহ সন্দেহভাজন ১৮ জনকে
জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র্যাব।
ওই হত্যাকাণ্ডের দুইদিন পর কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো: শাহ আবিদ হোসেন পুলিশ সদর দপ্তরে এক আবেদনে বলেন, জেলা পুলিশ তদন্ত করলে মামলাটির রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘসূত্রিতায় পড়তে পারে।
এর পরেই মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। অবশ্য পুলিশ সদর দপ্তরে এমন আবেদনের পরেও সুপার মো: শাহ আবিদ হোসেন গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে এ মামলার রহস্য উদঘাটন করা হবে।
গত ২০ মার্চ সকালে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
ওই হত্যার ঘটনা প্রকাশের পর থেকে সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।








