গত বছরের পহেলা বৈশাখের নির্লজ্জ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবছর আবার তনু হত্যার ঘটনায় পুরো সমাজকে নাড়া দিয়ে গেছে। নারীদের ওপর অত্যাচার মহামারীর মতো দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
সেই মহামারী থেকে নিজেদের বাঁচার জন্য নারীরা নিজেরাই যার যার অবস্থান থেকে প্রতিরোধের দুর্গ গড়ে তুলছেন। সেই প্রেক্ষাপটে ‘প্রীতিলতা ব্রিগেড’ সংগঠনটি বিভিন্নভাবে নারীদেরকে আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করছে।
পহেলা বৈশাখে নারীদের ওপর নির্যাতনের পর ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে গঠন করা হয় ‘প্রীতিলতা ব্রিগেড’। সাধারণ নারীদের মানসিকভাবে গড়ে তোলার জন্য সংগঠনটি প্রথমে সাঁতার শেখানো, সাইকেল শেখানো শুরু করে।
তনু হত্যার ঘটনার পর সংগঠনটি শুরু করে ‘তনুদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ’। যে প্রশিক্ষণে হাজারো তনু জেগে উঠবে সমাজকে বাঁচানোর জন্য। গত ৮ এপ্রিল থেকে সংগঠনটি চালু করে আত্মরক্ষার এ প্রশিক্ষণটি। প্রতি শুক্রবার সকাল ৮টায় রমনা পার্কে সব বয়সী নারীদের জন্য উমুক্ত প্রশিক্ষণটি।
আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ইডেন কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী কাজী ইরা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আত্মরক্ষা মানে কারো সঙ্গে মারামারি করা না। এটা এমন একটি শক্তি যা কিনা আপনাকে মানসিক ভাবে বড় করে তোলে। যেমন ধরুন, আমার কথা, আগে যখন রাস্তায় চলাফেরা করতাম তখন আশে-পাশে অনেক ছেলেরা বাজে মন্তব্য করত, মনের ভিতর সাহস বা নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ছিলো না। তাই প্রতিবাদ করতে পারতাম না। আর এখন কেউ যদি কোনো আজে-বাজে কথা বলে তখন নিজের প্রতিরোধ নিজেই করি কারো সাহায্যের দরকার হয় না। আসলে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য এ প্রশিক্ষণ খুব দরকার।
প্রমা মিত্র কিছুদিন আগে গ্রাম থেকে এসেছেন উচ্চ শিক্ষার আশায়। আসার কিছুদিন পরে শোনেন তনু হত্যার ঘটনা। পরিবার থেকে প্রমাকে বলা হয়, বাইরে বেশি থাকবে না, কেউ যদি কোনো কিছু বলে তাহলে উল্টো জবাব দিবে না। পরিবার থেকে এমন কথা শোনার পর ভেঙ্গে পড়তে শুরু করলাম। সবার আড়ালে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতাম।
এমন অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আসলে সমাজ এবং পরিবার আমাদেরকে এমনভাবে গড়ে তোলে যে নিজের প্রতিরোধ নিজেরা করার সাহস আমরা পাই না। কিন্তু আমি সেই নারী হয়ে বেঁচে থাকেত চাই না, তাই পরিবারের কথা অমান্য করেই রাস্তাঘাটে কোনো অন্যায় ঘটলে আমি প্রতিবাদ করি। সেটা নিজের সঙ্গে হোক বা অন্যের সঙ্গে হোক। আর এখন তো প্রশিক্ষণ নিয়ে আরো বেশি সাহসী হয়ে উঠছি।
১০ থেকে ১২ জন সাহসী তরুণীর দল নিয়ে ‘তনুদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ’ শুরু হয়েছে। এই তরুণীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে আত্মরক্ষার ক্যাম্পিং করবেন। এমন উদ্যোগের কথা চ্যানেল আই অনলাইকে জানোলেন ‘প্রীতিলতা বিগ্রেডের’ সাধারণ সম্পাদক অগ্নিকণ্ঠী লাকী আক্তার।
তিনি বলেন: রাষ্ট্র যখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। তখন নিজেদের নিরাপত্তা তো নিজেদের দিতে হবে। রাষ্ট্রের উচ্চ মহল থেকে যখন আমরা এসব কথা শুনি তখন অপরাধীরা আরো বেশি উৎসাহ পাই। সরকার অপরাধীদের সনাক্ত করে বিচার করতে পারছে না আর তাদের দায়ভার জনগণের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
শুধু নারী নয় এদশে কেউ নিরাপদ নয়। তাই ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে আমরা ছোট্ট পরিসরে নারীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণটি চালু করছি। প্রশিক্ষণটি শহর থেকে গ্রামে ছড়িতে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সম্পূর্ণ বিনা খরচে আমরা প্রশিক্ষণটি দিচ্ছি।







