অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন মায়ের কোলে চড়ে স্কুল কলেজের গণ্ডি পার হওয়া নেত্রকোনার ছেলে হৃদয় সরকার।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ডিনস কমিটির সভায় শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে হৃদয় সরকারকে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদভুক্ত খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হৃদয় সরকার। তার মেধাক্রম ছিল ৩ হাজার ৭৪০। কিন্তু ‘খ’ ইউনিটে মোট আসন ২ হাজার ৩৮৩।
মেধায় সুযোগ না পেলেও কোটায় ভর্তির সুযোগ পাবেন বলে সেসময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।
ছোটবেলা থেকেই নিজে নিজে চলাচল করতে অক্ষম হলেও হৃদয়ের স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। প্রতিবন্ধী কোটায় আবেদন করেছিলেন তিনি। এই কোটায় আসনও ফাঁকা ছিল। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিতে প্রতিবন্ধী কোটায় শুধু দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী হলেই কোটা প্রযোজ্য হবে৷ অন্য কোনো ধরনের প্রতিবন্ধীরা কোটায় ভর্তি হতে পারবেন না। এজন্য ভর্তি হতে আসলেও হৃদয়কে প্রতিবন্ধী ফরম দেয়া হয়নি।
তখন ভেঙ্গে পড়েছিলেন হৃদয় ও তার মা সীমা সরকার, যিনি হৃদয়কে ছোটবেলা থেকেই কোলে করে স্কুল কলেজে নিয়ে গেছেন। তখন হৃদয় চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছিলেন, আমার প্রতিবন্ধীতার সনদ, পরিচয় পত্র উনাদের দেখিয়েছি। তাও আমার মা বাবাকে ডিন অফিস থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।”
এ অবস্থায় ডিনস কমিটির সভায় তাকে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেয়া হয় বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল।
তিনি বলেন, ওকে ভর্তি করানোর বিষয়ে এখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে পাশাপাশি আগে তো বাক, শ্রবণ আর দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ভর্তি করানো হত। কিন্তু এখন থেকে এর সাথে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিষয়টিও যোগ করা হয়েছে৷কেউ যদি মেধাতালিকায় থাকে এবং কোটায় ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা থাকে তাহলে তারা ভর্তির সুযোগ পাবে। আগামীবার থেকে এটা কার্যকর করা হবে।
ভর্তির সুযোগ পাওয়ার খবর এই প্রতিবেদকের কাছে শোনার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হৃদয় ও তার মা সীমা সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও গণমাধ্যম কর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ছোটবেলা থেকেই হাঁটতে না পারা হৃদয়ের মায়ের কোলে চড়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা ওই দিনের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে হৃদয় সরকার বাংলা অংশে ৯ দশমিক ৩০, ইংরেজি অংশে ১৪ দশমিক ৪০ ও সাধারণ জ্ঞান অংশে ২৮ দশমিক ৯০ নম্বরসহ মোট ১২০ দশমিক ৯০ নম্বর পেয়ে ৩ হাজার ৭৪০তম হন৷ প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তির আবেদন করেছিলেন হৃদয় ৷সমাজসেবা অধিদপ্তর হৃদয় সরকারকে প্রতিবন্ধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।








