দেশব্যাপী চলমান ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরাপদ বাংলাদেশের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
নিরাপদ বাংলাদেশের দাবিতে সরকারের কাছে ছয়টি দাবি জানান তারা। তাদের দাবিগুলো হল- চলমান পরিস্থিতির সুষ্ঠু তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার, ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি বাস্তবায়ন, খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বাস্তবায়ন, বাক স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা এবং আন্দোলন পরবর্তী সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রুয়েটের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নিতে আসলে পুলিশ এক পর্যায়ে তাদের মহাসড়কে আসতে নিষেধ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে দশ মিনিটের জন্য মহাসড়কে মানববন্ধন শুরু করে। মানববন্ধনের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে সেখানেই বসে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা তারা এ কর্মসূচি পালন করে। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তিতে পরে। অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘আমার বাংলাদেশে আমি লজ্জিত’, ‘হ্যাঁ আমি মেয়ে কিন্তু তার আগে আমি একজন মানুষ’, ‘সুবোধ তুই পালাস নে আমরা তোর সাথে আছি’, ‘ধর্ষকদের ফাঁসি চাই’ সম্বলিত বিভিন্ন ধরণের প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জিমি আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে আজ আমরা স্বাধীন নই। নিরাপদে যাতায়াতও করতে পারি না। নিজেদের মৌলিক অধিকার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ালেও হামলার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। রাস্তায় নামলে পুলিশের মার খেতে হচ্ছে। যেখানে সরকার হবে জনগন বান্ধব সেখানে সরকার নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এই স্বাধীন দেশে এটাই কি আমাদের স্বাধীন?
এদিকে, ঢাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নয় দফা দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। আগামীকালের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে চালকরা। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। চালকদের বিরুদ্ধে যখন শিক্ষার্থীরা রুখে দাঁড়িয়েছে তখন শিক্ষার্থীদের হামলার মাধ্যমে দমন করার চেষ্টা করছে সরকার। এটা আমাদের যৌক্তিক দাবি। এ দাবি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, এ দাবি সচেতন প্রতিটি নাগরিকের।
একই দাবিতে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন।







