ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল এবং ফাইন্যান্স কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী নীল দলের শিক্ষকরা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন। ১৩টি পদের মধ্যে আওয়ামীপন্থী ১২ জন ও সাদা দলের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা একটি পদে জয় পেয়েছেন।
নীল দলের শিক্ষকদের মধ্যে ডিন পদে শুধু হেরেছেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩ টায় নির্বাচন কমিশনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীন এই ফল ঘোষণা করেন। মোট ১ হাজার ৬০০ ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৪১৮ জন শিক্ষক এই ভোট দেন।
সিন্ডিকেটে নির্বাচিত ছয় শিক্ষক প্রতিনিধি হলেন ডিন ক্যাটাগরিতে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো: হাসানুজ্জামান। তিনি বিএনপিপন্থী সাদা দলের শিক্ষক। প্রাধ্যক্ষ ক্যাটাগরিতে সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে আইন বিভাগের অধ্যাপক মো রহমত উল্লাহ, সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো মিজানুর রহমান এবং প্রভাষক ক্যাটাগরিতে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক জান্নাতুল নাঈমা।
একাডেমিক পরিষদে নির্বাচিত ছয় জন শিক্ষক প্রতিনিধি হলেন সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলমগীর কবির, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নেপাল চন্দ্র রায়, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফ সাদেক।
সহকারী অধ্যাপক/প্রভাষক ক্যাটাগরিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা আহমেদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী এবং সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্চিতা গুহ।
ফাইন্যান্স কমিটিতে নির্বাচিত এক জন শিক্ষক প্রতিনিধি হলেন একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।
প্রভোস্ট ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে বিজয়ী মাস্টার দা সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামাল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, “এ বিজয় বর্তমান সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট হয়েছে তার স্বীকৃতি। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির প্রতি আমাদের মেধাবী শিক্ষকদের যে আস্থা তা প্রমানিত হয়েছে। এই বিজয়ের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিকল্প যে অন্য কেউ নেই তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।”
ডিন পদে নীল দলের একজনের পরাজয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা এখনো ফলাফল বিশ্লেষণ করিনি। একটি পদে আমরা জয়লাভ করিনি। শিক্ষকরা সবসময় হয়তো একধরনের ‘চেক এন্ড ব্যালেন্স’ করতে চান। সেই জায়গা থেকেই তাদের মনে হয়েছে ঐ দল থেকেও একজনের দরকার। সেকারণেই হয়তো সাদা দল থেকে একজন জিতেছেন।”
ডিন ক্যাটাগতিতে ৭০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী সাদা দলের প্রার্থী ও ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক হাসানুজ্জামান এর আগেও ২০০৮ ও ২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন।
জয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, “আমি এর আগেও দুইবার সিন্ডিকেট সদস্য ছিলাম। যখন যেখানে কাজ করেছি সততার সঙ্গে কাজ করেছি। সেটারই প্রতিফলন পেয়েছি।”
সাদা দল থেকে নির্বাচনে আসা ১৩টি পদের মধ্যে ১২টিতে পরাজয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমাদের যারা নতুন তারা সবাইকে সেভাবে ‘রিচ’ করতে পারেনি। এটাতো প্যানেল ইলেকশন। সাদা প্যানেল ভোট কিছুটা কম। সেকারণে ভোট কম পড়েছে। তবে আমাদের দলের যারা প্রার্থী ছিলেন তারা সকলেই একাডেমিক্যালি যথেষ্ট যোগ্য।”







