কাল একটা ছবি খুব ভাইরাল হয়েছে। একটা বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন তলার সানশেড জুড়ে ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। এই যখন আমাদের বাসা-বাড়ির অবস্থা, তখন ডেঙ্গু এড়ানো যে কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়। তার ওপর মশার ওষুধ নিয়ে হচ্ছে নানান আলোচনা। এসব দেখে অনেকেই অনেক উদ্যোগী হয়ে উঠেছেন বাসাবাড়ি পরিষ্কার অভিযানে। সত্যি সত্যিই ডেঙ্গুমুক্ত হচ্ছে হয়তো অনেক বাসা। তাহলে শিরোনামে এড়িয়ে যাবার কথা বললাম কেন? কী এড়িয়ে যাচ্ছি এই সতর্কতার সময়ে? উত্তরটা অনেকেরই জানা, তবে মাথায় আসছে না হয়তো।
দিনের সবচেয়ে বেশি সময় আমরা কোথায় কাটাই? উত্তরটা কর্মক্ষেত্র। সেটা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুল-কলেজ ভার্সিটি, ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান, চাকুরিজীবীদের জন্য অফিস। বাসা পরিষ্কার করা সব সচেতন মানুষ কর্মক্ষেত্রে কতটা সচেতন?
অফিস রুমে ক’জন বাসার মতো কয়েল, লিকুইডেটর স্প্রে মেরে সতর্ক থাকছেন সবসময়?কাল একটা স্কুলে গিয়েছিলাম বাচ্চাদের মোটিভেট করতে। বিষয় ছিল ডেঙ্গু ও গুজব প্রতিরোধ। সেখানেও ক্লাসরুমে চোখে পড়লো না মশা তাড়ানোর কোন কিছু।
দিনের বেলাতেই নাকি এডিস মশার আক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়। তাহলে কর্মক্ষেত্রে সতর্কতার বিকল্প আছে কি?
আপনার, অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একটু নজর দিন। টয়লেট, এসি, চা বানানোর জায়গা…শেষ কবে ঘুরে দেখেছেন? বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, সব পরিষ্কার আছে মনের মতো করে?
সময় নেই হাতে একদম। আজই সতর্ক হোন। বাসার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মত কর্মক্ষেত্রের সচেতনতাও জরুরী।
স্কুল-কলেজ- ভার্সিটির শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে সর্বাগ্রে। ক্লাসরুম কিংবা হলগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান দরকার নিবিড়ভাবে। শুধু ওষুধ ছিটানোতে সীমাবদ্ধ যেন না থাকে।
আপনার ঝকঝকে-তকতকে কর্পোরেট অফিস নেপথ্যে লালন করছে না তো এডিসের বংশকে? আজ থেকেই না হয় শুরু হোক চোখ মেলে দেখা। তবু হোক।
পত্রিকার পাতায় প্রতিটা মৃত্যু আমাদের কাছে নিছক সংখ্যা মাত্র। এর পেছনে কিন্তু মিশে থাকে পুরো পরিবারের আজীবন কান্না।
নিরাপদ হোক জীবন। কাটিয়ে উঠতে চাই ডেঙ্গুর কুপ্রভাব।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








