চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

‘ডুব’ হুমায়ূন আহমেদেরই জীবনকাহিনী: রোকেয়া প্রাচী

৫:০৭ অপরাহ্ণ ১৮, নভেম্বর ২০১৬
বিনোদন
A A

বেশ কিছুদিন ধরেই ‘ডুব’ চলচ্চিত্রটি নিয়ে বিতর্ক চলছে। কলকাতার একটি দৈনিক দাবি করেছে, নন্দিত কথাশিল্পী ও নির্মাতা প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের জীবনকে ঘিরে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর এ চলচ্চিত্রটির কাহিনীপ্রবাহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফারুকী বলেছেন, ‘ডুব’ চলচ্চিত্রটির প্রতিটি চরিত্রই কাল্পনিক। তবে, অন্য এক ফেসবুক পোস্টে তিনি অপেক্ষাও করতে বলেছেন। আর হুমায়ূন আহমেদের পরিবার থেকে এসেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

আসলেই কি হুমায়ূন আহমেদের জীবনকে ঘিরে ‘ডুব’? চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করা রোকেয়া প্রাচী এমনটাই জানাচ্ছেন। পাক্ষিক ‘আনন্দ আলো’ সম্পাদক রেজানুর রহমান এবং বিশেষ প্রতিনিধি জাকীর হাসানকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, হুমায়ূন আহমেদের জীবনকাহিনী নিয়েই ‘ডুব’।

রোকেয়া প্রাচীর ওই সাক্ষাতকারই পাক্ষিকটির এবারের প্রচ্ছদ। এছাড়ও ‘ডুব রহস্য’ লিখেছেন রেজানুর রহমান। আর ছোট একটি সাক্ষাতকারে ‘কাজটা ঠিক হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা।

‘ডুব’ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে ‘আনন্দ আলো’কে দেয়া রোকেয়া প্রাচীর সাক্ষাতকারের বিস্তারিত:

প্রশ্ন: ডুব ছবিতে যুক্ত হলেন কভাবে?

উত্তর: ডুব ছবির কাস্টিং মোটামুটি তখন ফাইনাল হয়ে গেছে। একদিন ছবির পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আমাকে ফোনে বললেন আপনি আসেন, একটু কথা বলব। আমি তার বাসায় গেলাম। তিনি আমাকে ছবির গল্পটা বললেন। কে কে অভিনয় করছেন তাও বললেন। আমাকে দিয়ে একটা চরিত্র করাতে চান সে কথাও বললেন। চরিত্রটা কেমন সেটাও বোঝালেন। চরিত্রটা আমার খুউব পছন্দ হলো। শ্যুটিং এর ব্যাপারে কথা উঠলো। অর্থাৎ কখন শ্যুটিং হবে সে ব্যাপারে প্রসঙ্গ উঠলো। শ্যুটিং এর সময়টা আমার আওতার মধ্যেই আছে দেখলাম। যেহেতু এর আগে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে আমার কোনো কাজ করা হয় নাই। অর্থাৎ তার কোনো সিনেমা এমনকি নাটকেও অভিনয়ের সুযোগ মিলে নাই। তাই মনস্থির করলাম- এই সুযোগটা হাত ছাড়া করব না। কথায় কথায় ফারুকী বললেন- আমি কিন্তু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের হাতে গল্পের স্ক্রীপ্ট দেই না। তাই আপনিও স্ক্রীপ্ট পাবেন না।

Reneta

প্রশ্ন: তার মানে আপনি স্ক্রীপ্ট  ছাড়াই ডুব-এ কাজ করার জন্য মনস্থির করলেন?

উত্তর: হ্যাঁ আমি ‘রিটেন’ কোনো স্ক্রীপ্ট পাইনি। শ্যুটিং এর সময় কিছু কিছু সিকোয়েন্স ছিল ইস্প্রোভাইজ করা। কিছু কিছু সিকোয়েন্সের সময় পরিচালক আমাদেরকে স্ক্রীপ্ট দিয়েছেন। আমরা স্ক্রীপ্ট পড়ে রিহার্সেল করেছি। পরিচালক আমাকে প্রফেশনালি ছবির কোনো স্ক্রীপ্টই দেন নাই। এটাই নাকি উনার ছবির ক্ষেত্রে নিয়ম। তবে পরিচালকের হাতে ছবির স্ক্রীপ্ট ছিল। বিশেষ বিশেষ সিকোয়েন্স করার সময় তিনি সেই স্ক্রীপ্ট আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। স্ক্রীপ্ট পড়ে কখনও আমি এবং তিশা, কখনও আমি এবং ইরফান ভাই রিহার্সেল দিয়েছি। তারপর শ্যুটিং করেছি।

প্রশ্ন: ছবিতে আপনার চরিত্রের নাম কী?

উত্তর: মায়া।

প্রশ্ন: চরিত্রটা কেমন?

rokeya_prachi_2
‘ডুব’ চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা ইরফান খানসহ অন্যান্য অভিনয় শিল্পী

উত্তর: চরিত্রটা বেশ ইন্টারেস্টিং…. গল্পের শুরুতে মায়াকে একজন নর্মাল হাউজ ওয়াইফ হিসেবে দেখা যাবে। তার স্বামীর নাম জাভেদ। তাদের সংসার জীবনটা বেশ সুন্দর। হাজবেন্ড লেখালেখি করেন। তিনি একজন ফিল্ম মেকার। মায়া ও জাভেদের প্রেমের বিয়ে। জাভেদ আর মায়ার মধ্যে বয়সের একটু ব্যবধান আছে। তবুও তারা পালিয়ে বিয়ে করে। মায়া বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে মায়ার পরিবারে অশানিৱ হয়। ঘটনা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। এরকম ঘটনা আছে ছবির গল্পে…

প্রশ্ন: জাভেদ ও মায়ার মধ্যে বয়সের ব্যবধান আছে?

উত্তর: হ্যাঁ, কিছুটাতো আছেই…

প্রশ্ন: সেটা কেমন?

উত্তর: ছবির পরিচালক ফারুকী শুরুতে আমাকে বলেছিলেন- আপনার চরিত্রের দুটো বয়স দেখাব। তরুণ এবং একটু বয়স্ক… প্রসঙ্গক্রমে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন- শ্যুটিং চলাকালীন সময় আমি বয়স থেকে একটু পিছিয়ে যেতে পারব কি না? আমি তাকে বলেছিলাম- হ্যাঁ আমি এই চ্যালেঞ্জটা নিতে পারব? এজন্য আমি তৈরিই ছিলাম। কিন্তু পরিচালক সেটা করেননি। ছবিতে দেখা যাবে আমি ও ইরফান খান অল্প বয়সে পালিয়ে বিয়ে করি। ইরফান খান অর্থাৎ আমার স্বামী জাভেদ জীবনযুদ্ধে অনেক সংগ্রাম করে লেখক ও চলচ্চিত্রকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। এক নামে তাকে সবাই চিনে। সারাদেশে তার অগণিত ভক্ত… প্রেম করে বিয়ে করার পর একটা দারুণ সুখী কাপল ছিলাম আমরা। সুখের দাম্পত্য জীবন যেতে যেতে আমাদের মেয়ের জন্ম হয়। সেই মেয়ের চরিত্রে  অভিনয় করেছে তিশা। তিশার প্রিয় বান্ধবীর ভূমিকায় অভিনয় করেছে কলকাতার পার্নোমিত্র। সে মাঝে মাঝেই আমাদের বাসায় আসে। আমার স্বামী জাভেদ মেয়ের বান্ধবীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। এই প্রেমকে ঘিরে আমাদের দাম্পত্য জীবনে একটা ঝড় ওঠে।

প্রশ্ন: পর্নোমিত্র তিশার বান্ধবী?

উত্তর: হ্যাঁ দু’জন একই সঙ্গে কলেজে পড়ে? মেয়ের বান্ধবীর সঙ্গে বাবার প্রেম শুরু হয়। এই নিয়ে সংসারে অশানিৱর ঝড় ওঠে। বাবার এই ঘটনা মেয়ে প্রথমে টের পায়। তারপর মা টের পায়… মেয়ে মাঝে মাঝে রিয়্যাক্ট করে। এ নিয়ে সংসারে তুমুল ঝগড়া হয় মাঝে মধ্যেই। পত্র-পত্রিকা ও প্রচার মাধ্যমে লেখক ও চলচ্চিত্র পরিচালক জাভেদকে নিয়ে মুখরোচক অনেক লেখালেখি শুরু হয়। স্ত্রী মায়া স্বামীর কাছে এনিয়ে নানা প্রশ্ন তোলে- মেয়ের বান্ধবীর সঙ্গে তুমি যে সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছ তা কি ঠিক হচ্ছে? পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য জাভেদ মাঝে মাঝে মায়াকে নানা ভাবে বুঝাতে চায়। বেড়াতে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু শেষমেশ মায়া আর জাভেদের সংসারে ভাঙন দেখা দেয়। বিচ্ছেদ হয় দু’জনের। মেয়ের বান্ধবীকে শেষ পর্যন্ত বিয়ে করে জাভেদ। মায়া ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সংসার থেকে বেড়িয়ে যায়।

প্রশ্ন: ছবির কাহিনীতে আপনাদের ছেলে-মেয়ে কয়জন?

উত্তর: এক ছেলে এক মেয়ে… ডিভোর্সের পর মায়া একটা স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নেয়। নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংগ্রাম শুরু করে। জাভেদের নতুন সংসারে একটি ছেলের জন্ম হয়। গল্পের শেষে জাভেদ মারা যান।

প্রশ্ন: এই যে ছবিটিতে অভিনয় করলেন। একজন শিল্পী হিসেবে আপনার অনুভূতি কি?

উত্তর: এই ছবিতে অভিনয় করে আমার খুব ভালো লেগেছে। কারণ আমরা সাধারণত এই ধরনের গল্পের ছবি বানাই না। গল্পটা অন্যরকম। এই ছবিতে একটা রিসোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে জাভেদ প্রায়শই বসবাস করেন। লেখালেখি ও চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য রিসোর্টটি ব্যবহার করেন। বিয়ের আগে মেয়ের বান্ধবীকে নিয়ে জাভেদ এই রিসোর্টে সময় কাটান। অবশ্য স্ত্রী হিসেবে এই রিসোর্টে আমার কোনো শ্যুটিং ছিল না। ছবির গল্পই আমার কাছে অন্য রকম মনে হয়েছে। সম্পর্কের জটিল কিছু জায়গা তুলে ধরা হয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবন ভালো যাচ্ছে না। মেয়ের বান্ধবীর সঙ্গে লেখকের প্রেম। সব কিছু মিলিয়ে একটা মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে ছবির গল্প এগিয়ে গেছে।

প্রশ্ন: এবার একটু ভিন্ন প্রশ্ন আপনার কাছে। ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে একজন শিল্পী হিসেবে কি কখনও মনে হয়েছে চরিত্রগুলো একেবারেই কাছ থেকে দেখা। সবার পরিচিত… প্রিয় মানুষ…

উত্তর: হ্যাঁ মনে হয়েছে। খুব বেশি মনে হয়েছে। যদি বলি মনে হয়নি তাহলে নিজের কাছে প্রতারণা করা হবে।

প্রশ্ন: আমরা এরকম শুনেছি… এই যে ছবিটা বানানো হচ্ছে…. খুবই কাছের মানুষদের জীবন এর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে… এই তথ্য যেন ছবি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত বাইরে প্রকাশ না করা হয় সে ব্যাপারে শ্যুটিং চলাকালে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

উত্তর: আমার চোখে সে ধরনের কোনো ঘটনা চোখে পড়েনি। তবে একটা ব্যাপার বোঝাই যাচ্ছিল কাকে নিয়ে, কার জীবন নিয়ে ছবিটা বানানো হচ্ছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের কোনো পত্র-পত্রিকা, বিশেষ করে প্রচার মাধ্যম যে খবরটি জানলো তা জানতে পারলো পাশের দেশের প্রচার মাধ্যম। কলকাতার একটি দৈনিকে অবশেষে খবর বেরুলো ‘ডুব’ আসলে নন্দিত কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের জীবনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

উত্তর: (ভেবে নিয়ে) হুমায়ূন আহমেদ অনেক বড় মাপের একজন মানুষ। তাঁর কাজের ক্ষেত্র ছিল অনেক বড়, বিসৱৃত। তাঁর নাটক, তাঁর সাহিত্য, তাঁর গানসহ জীবনের নানা ক্ষেত্র নিয়ে বিশ্বমানের ছবি বানানো যেতে পারে। ছবিটিতে আমি যতদূর পর্যন্ত অভিনয় করেছি, যে ঘটনাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি, যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দের সঙ্গে লড়াই করেছি, তাতে নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি এটি হুমায়ূন আহমেদেরই জীবন কাহিনি। খুবই ফ্রাঙ্কলি বলি। এই ছবিতে যা যা দেখানো হয়েছে তার সব কিছুই হুমায়ূন আহমেদের জীবনে ঘটেছে। কাজেই এটাকে হুমায়ূন আহমেদের লাইফ স্টোরিও বলা যায়। অনেকে হয়তো বলতে পারেন অন্য আরও দশজনের সংসার জীবনেও তো এমন ঘটনা ঘটতে পারে। হ্যাঁ পারে। কিন্তু তারা তো সমাজের পরিচিত কেউ নন। হুমায়ূন আহমেদ শুধু পরিচিতই নন দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনেক। তাঁর জীবনের অনেক ঘটনা আছে। বিশেষ কোনো ঘটনা নিয়ে ছবি বানাতে গেলে তাকে তার পরিবারের লোকজনকে অসম্মান, বিব্রত করা হচ্ছে কি না না ভাবা জরুরি। ‘ডুব’ ছবিতে যা দেখানো হয়েছে তা হুমায়ূন আহমেদের জীবনের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। আমি জানি না আমার ছবির পরিচালক আমার এই সত্য ভাষণ কীভাবে নিবেন? যা সত্যি তাই আমি বললাম। সত্য প্রকাশ করায় কেউ যদি বিব্রত হন তাতে আমার বলার কিছু নাই। তর্কের খাতিরে আমার পরিচালকের পক্ষ হয়েই যদি বলি- হ্যাঁ তিনি এটা করতেই পারেন। এ ধরনের ছবি বানাতেই পারেন। তবে পরিচালক হিসেবে তারও তো একটা দায়বদ্ধতা আছে? তিনি কাকে নিয়ে ছবি বানাচ্ছেন? কাহিনির মানুষটা কে? বোধকরি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জরুরি?

প্রশ্ন: আপনাকে একটা প্রশ্ন করি। ডুব ছবিতে যে কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে তার সঙ্গে তো অন্য আরও দশজনের কাহিনি মিলে যেতে পারে। কাজেই এনিয়ে এত তর্ক কেন?

rokeya_prachi_1
হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের চরিত্রে অভিনয় করা রোকেয়া প্রাচী

উত্তর: বিনীত ভাবে একটা কথা বলি। ঐ যে আরও দশজনের কথা বললেন। তারা কিন্তু এখানে সিগনিফিকেন্ট না। তাদেরকে ক’জন মানুষ চিনে? আর হুমায়ূন আহমেদ আমাদের ন্যাশনাল আইকন। তাঁর জীবন কাহিনি কীভাবে, কতটুকু, জন সমক্ষে তুলে ধরবেন তারও একটা মাত্রা থাকা দরকার। আপনি ইচ্ছে করলেই একজন ন্যাশনাল আইকনের জীবনের খণ্ডিত অংশ নিয়ে ছবি বানাতে পারেন না।

প্রশ্ন: একজন নির্মাতা হিসেবে এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

উত্তর: অন্যদের কথা বলতে পারব না। আমি হলে অবশ্যই যাকে নিয়ে ছবি বানাচ্ছি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কি করতে চাই, কেন করতে চাই এ ব্যাপারে তাদের জানাতাম। তাদের মতামত নিতাম। সব কিছু তাদের সঙ্গে শেয়ার করতাম। তাদের অনুমতি নিয়েই কাজটা শুরু করতাম।

প্রশ্ন: ডুব ছবির পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, আমি হুমায়ূন আহমেদের কাহিনি নিয়ে ছবি বানাইনি। ডুব হুমায়ূন আহমেদের ‘বায়োপিক’ নয়। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর সকল বিতর্কের অবসান হবে। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

উত্তর: আমি আমার পরিচালক ফারুকী সাহেবের এই মন্তব্যের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করছি। আমার হাজবেন্ড ছিলেন পুলিশ অফিসার। উনি মারা যাবার পর তাকে নিয়ে একজন নির্মাতা নাটক বানাতে চেয়েছিলেন। আমি তাকে বললাম- নাটক বানাবেন ভালো কথা। আমাকে কিন্তু পুরো স্ক্রীপ্ট আগে দেখাতে হবে। আমার স্বামীর জীবনের কোন অংশ নিয়ে নাটক বানাতে চাও? তার মৃত্যুকালীন সময়টা? নাকি তার দাম্পত্য জীবন? স্টুডেন্ট লাইফ, নাকি তার থিয়েটার লাইফ? কোন অংশ নিয়ে নাটক বানাতে চাও? তখন সে বলল- আপা আমি আপনাকে স্ক্রীপ্টটা পাঠাচ্ছি। আপনিও অভিনয় করবেন। সঙ্গে থাকবেন তৌকীর ভাই। আমরা সবাই মিলে নাটকটা বানাব। তার কথা ভালো লাগল। রাজি হয়ে গেলাম। নির্ধারিত দিনে শ্যুটিং স্পটে গিয়ে আমি অস্থির হয়ে উঠলাম। শ্যুটিং ইউনিটের চরম দুরবস্থা। কোনো এরেজমেন্টই ঠিক নাই। আমি পরিচালক ছেলেটিকে ডেকে বললাম- তোমার আন্তরিকতা দেখে আমি কাজটা করতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু তুমি তো এভাবে কাজটা করতে পারবে না। শোন আহাদ আমার হাজবেন্ড ছিল বলে নয়। তিনি একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন। দেশের জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন। কাজেই তাকে নিয়ে কিছু করতে গেলে সে রকম প্রস্তুতি চাই। পাশাপাশি চাই আন্তরিকতা। তুমি যেহেতু কাজটা করতে গিয়ে ‘ফেল’ করেছো দ্বিতীয়বার আর এ পথে পা বাড়াবে না। আমি তোমাকে পারমিশন দিব না। আসলে সম্পর্কের জায়গাটা বোঝানোর জন্য এই ঘটনাটা উল্লেখ করলাম। যার যায় সেই ব্যথাটা বোঝে। আমার প্রিয় পরিচালক ফারুকী বারবার বলার চেষ্টা করছেন তিনি হুমামূন আহমেদের জীবন নিয়ে ছবি বানান নাই। কিন্তু ডুব ছবির কাহিনির সঙ্গে তো হুমায়ূন আহমেদের জীবনের হুবহু মিল আছে। এই ছবি হলে মুক্তি পাবার পর হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের অনেক সদস্যই বিব্রত হবেন। এটি কি তাদের প্রাপ্য? এর জবাব কী?

প্রশ্ন: ভারতের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে ডুব ছবিতে অভিনয়ের আগে বিশিষ্ট অভিনেতা ইরফান খানকে হুমায়ূন আহমেদের ওপর ধারণ করা কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

উত্তর: এ ব্যাপারে আমি সঠিকভাবে কিছু বলতে পারবো না। কারণ শ্যুটিং-এর সময় ছাড়া ইরফান খানের সঙ্গে আমার কমই দেখা হয়েছে। তার জন্য আলাদা এরেজমেন্ট ছিল। তবে এই গুজবটা আমিও শুনেছি। প্রশ্ন করতে পারেন গুজবটা ছড়ালো কে? যা রটে তা কিছু বটে… কথাগুলো আসলে কোত্থেকে? শ্যুটিং স্পট থেকেই তো? শ্যুটিং-এর সময় এরকম কানাঘুষা অনেকবার শুনেছি।

প্রশ্ন: শ্যুটিং-এর সময় আপনার কি কখনও মনে হয়েছে ইরফান খান অভিনয় করতে গিয়ে হুমায়ূন আহমেদকে ফলো করছেন?

উত্তর: এভাবে দেখার সুযোগ পাইনি। আসলে আমি তো সারাক্ষণ ছিলাম আমার ক্যারেকটারের মধ্যে। ইরফান খান বলে কথা। তার সঙ্গে অভিনয় করছি। এই সুযোগ হয়তো আর আসবে না। কাজেই ভালো কিছু করতে হবে। আমার মাঝে এই চেষ্টাটাই ছিল বেশি। ফলে ইরফান খান কাউকে ফলো করছেন কি না তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তার অবকাশ ছিল না। তবে হ্যাঁ আমি যে গুলতেকিনের চরিত্রে অভিনয় করেছি এটা মনে হচ্ছিল। গুলতেকিন মানুষ হিসেবে আসলে কেমন? তাতো আমি বলতে পারব না। তবে মায়াকে আমার গুলতেকিনই মনে হয়েছে।

(কৃতজ্ঞতা: পাক্ষিক আনন্দ আলো)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: ডুবরোকেয়া প্রাচী
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

‘সদস্যপদ’ টিকিয়ে রাখতে কমনওয়েলথ গেমসে যাচ্ছে বাংলাদেশ

জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সংসদ ভবনের সামনে লাঠিচার্জ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ

জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: পিএমও।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

জুলাই ১৪, ২০২৬

সংসদে ভবনের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থান

জুলাই ১৪, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT