রাজনীতির মাঠে ব্যর্থতার ভারে ডুবন্ত বিএনপিকে উদ্ধারে গণতন্ত্র ঐক্য প্রক্রিয়ার নামে বর্ণচোরা রাজনীতিবিদরা ষড়যন্ত্রে নেমেছে বলে অভিযোগ করেছে ১৪ দল।
ক্ষমতাসীন এ রাজনৈতিক জোটের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টির পেছনে যারা জড়িত এবং কুশীলব তারাই আবার একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্রে একমঞ্চে মিলিত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।
যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার গত ২২ সেপ্টেম্বরের সমাবেশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে। এদেশে যারা দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে লালন করে যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের প্রশ্রয় দিয়েছে, ওয়ান ইলেভেনের কুশীলব এবং মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান দিয়ে রাজনীতি করেন তারা সকলেই একই মঞ্চে বসে নাটক করেছেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৪ দল অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে দেখল মঞ্চে যারা ছিলেন তারা ডুবন্ত বিএনপিকে উদ্ধার করার জন্য মাঠে নেমেছে। তারা চাইছে ওই সন্ত্রাস গুম খুনের পরিবেশ এবং হাওয়া ভবনের দুর্নীতিকে আবার ফিরিয়ে আনতে। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করেছেন এবং বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার করেছেন, অনেকের দণ্ড কার্যকর হয়েছে সেই খুনিদের পৃষ্ঠপোষকরা ও বর্ণচোরা রাজনীতিবিদরা আবারও একই মঞ্চে বসে একটি ঘোষণা দিয়েছে। এই গণতন্ত্রের কথা বলেই ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি করা হয়েছিল। এটা আপনাদের মনে রাখতে হবে। ওয়ান ইলেভেন যারা সৃষ্টি করেছিল তারা এই মঞ্চে উপস্থিত ছিল। এই সমস্ত মানুষকে দেশের মানুষ চেনে ও জানে। যারা ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিল তাদের এদেশের মানুষ চেনে-জানে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন শেখ হাসিনা সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে, সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব হয়েছে, জঙ্গিবাদ নির্মূল করা হয়েছে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, তখন ওই পরাজিত শক্তি আবারও এক মঞ্চে মিলিত হয়েছে। তাদের চক্রান্তের মুখোশ উন্মোচন হয়ে গেছে। তারা আবারও আবারো বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রতিষ্ঠা করতে চান। প্রতিষ্ঠা করতে চান তাদের এই মুখোশ উন্মোচন হয়ে গেছে।
নির্বাচনকে বানচাল করতেই এ ষড়যন্ত্র অভিযোগ করে নাসিম বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আমরা নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানকে উপেক্ষা করার ক্ষমতা ১৪ দলের নেই। এমনকি শেখ হাসিনারও নেই। তাহলে তারা কেন আবারো সেই পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটছে। আমরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি যখন নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। তখন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে শুধু নির্বাচনকে বিলম্বিত করাই নয় নির্বাচন নস্যাৎ করার জন্য এরা চক্রান্তে নেমেছে। ১৪ দল ঘোষণা করেছে, নির্ধারিত সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, আপনারা দেখেছেন ওয়ান ইলেভেনের আগেও নাগরিক সমাবেশের নামে এমন একটি সমাবেশ করা হয়েছিল। আমরা আবারো সেই অশুভ উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি। ১৪ দল ঘোষণা করছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিটি দিন প্রতিটি ইঞ্চি মাটি দখলে আমরা মাঠে থাকবো।
এসময় আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে ১৪ দলের পক্ষ থেকে কর্মী সমাবেশের ঘোষণা দেন নাসিম।
অশুভ উদ্যোগে তারা মিলিত হয়েছে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিবাজ একাত্তরের ঘাতক এবং ১৫ আগস্টের গ্রেনেড হামলাকারীদের পক্ষে তারা কেন মাঠে নেমেছে তা আমরা জানি। কারণ আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই একুশে আগস্ট ওই মর্মান্তিক গ্রেনেড হামলার রায় প্রকাশ হবে। তখন বিএনপির ওই নেতাদেরকে সঙ্গে করে মাঠে নেমেছেন। ভেবেছেন জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া যাবে! সেটা হবে না। আইন আইনের গতিতে চলবে। আমরা শুধু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনের মাঠে থাকবো না মহাজোটকে বিজয়ী করবো।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে ১৪ দল হুমকি হিসেবে দেখছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, আমরা চিন্তা করছি না, তবে আরেকটি বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে আমাদের। সেটা হলো এই ব্যর্থ এবং হতাশ রাজনীতিবিদরা কেন মাঠে নেমেছে?
১৪ দল এ মুহূর্তে মাঠে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মাঠে আছি মাঠে থাকবো না কেন? ইনু সাহেব তো বড় বড় জনসমাবেশ করছেন। ১৪ দলের নেতারাও গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতির লেখা বই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনার ব্রোকেন ড্রিম! ওনার মনটাই আসলে ব্রোকেন হয়ে গেছে। যার কারণে উনি এই বইটা লিখেছেন। একটা জুডিশিয়াল ক্যুর মাধ্যমে কী করতে চেয়েছিলেন সেটা সবাই জানে। এটা একটি হতাশ ব্যক্তির আহাজারি মাত্র।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার দৈন্যতা নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র এ নেতা। বলেন, ওরা এমন নেতৃত্ব সৃষ্টি করেছে যে অন্য নেতৃত্ব ভাড়া করতে হচ্ছে। আমরা বক্তব্য দিয়ে আকর্ষণ সৃষ্টি করতে চাই না, মাঠে থাকতে চাই। তারা বিএনপি’র জনবিচ্ছিন্ন নেতাকে ভাড়া করেছে। সে এমন একজন নেতা, যে নিজেই খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার জন্য মাঠে নেমেছেন।








