তোফায়েল আহমেদ কেন বললেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে ১ লাখ লোক মেরে ফেলবে, আর এতেই বিএনপি নেতাদের দলীয় আদর্শিক ইমেজ লজ্জায় মরে যাচ্ছে। কী অদ্ভুত ব্যাপার, বলা নেই কওয়া নেই তোফায়েল আহমেদ এইরকম একটা সত্য কথা বলে দিতে পারলেন?
গত কয়েক দিন ধরেই এক শ্রেনীর কয়েক ব্যক্তির ডিনার পার্টির ঐক্য গ্রুপের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখছি আর ভাবছি, তারা কি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিয়ে ফেলেছে নাকি শপথ নেবে? হিসাব মেলাতে পারছি না। ছোট বেলায় দাদীর মুখে এক গল্প শুনেছিলাম, কলুর গল্প । ইয়াং এক অবিবাহিত কলু, প্রতিদিন তেল বিক্রি করে রাতের বেলা শুয়ে শুয়ে ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখতো, যে তেল বেচতে বেচতে কলুটা একদিন অনেক টাকার মালিক হবে, তারপরে কলুটা সুন্দরী দেখে একটা মেয়ে বিয়ে করবে, সেই বউয়ের ঘরে একটা ছেলে হবে, ছেলেটা তাকে বাপ বাপ বলে ডাকবে আর বলবে আব্বা তুমি ভাত খাও, তখন কলুটা অভিমানের সুরে ঝটকা দিয়ে উত্তর দিবে সে খাবে না, আর তখনই কলুটার ঘুম ভেঙ্গে যেত।তো একদিন কলুটা তেলের ঝাপি মাথায় নিয়ে দুপুর বেলা হাঁটছিল আর ঘুমিয়ে দেখা একই স্বপ্ন হাঁটতে হাঁটতে লাগলো হাঁটতে হাঁটতে দেখল, তার তেলের ঝাপি মাটিতে আর তেল মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। অর্থাৎ এক স্বপ্নে তার তেল আর পুঁজি সবই মাটিতে মিশে গেল।
বলছি না আমাদের উক্ত সব ভদ্রলোকেদের ফিউচার কলুর গল্পের মত হবে, তবে ডিনার পার্টির ঐক্যের মাথায় রাখা উচিত তারা ২০০৮ সালের নির্বাচনে একটি আসনেও জয়ী হতে পারেনি। প্ল্যান বি ফর বি চৌধুরি পরিবারের বিকল্পধারা ৬৩ আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৭ ভোট। বিখ্যাত ড. কামাল সাহেব গণফোরাম ব্র্যান্ডে সারাদেশে ৪৫ আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছিল ৭২ হাজার ৯১১ ভোট। জনাব সিনিয়র গ্র্যান্ড পলিটিশিয়ান আব্দুর রব দাদায় উনার জেএসডি ব্র্যান্ডে ৪৫ আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছিল ৩৭ হাজার ৩৫০ ভোট। আর মাহমুদুর রহমান মান্না স্যার? উনাকে নিয়ে বলার মত কোন হিস্টরিই নাই। অর্থাৎ মান্না ছাড়া বাকী তিনটি ব্র্যান্ডের তিনটি আসন ছাড়া বাকি সকল আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, যে ২০০৮ সালের পরে ২০১৮ সময় পর্যন্ত ডিনার ঐক্য পার্টি দেশ বা জনগণের জন্য কি এমন অসাধ্য সাধন করেছে যে উনাদের ছাড়া আর এক মুহূর্ত বাংলাদেশ চলবে না। আগামীতে উনারাই ক্ষমতায় বসতে চলেছে…। যাই হোক কাউকে ছোট বা খাটো করছি না, এটা হল বাস্তবতা ডেট ওভার প্রোডাক্ট যেমন ভ্যালুলেস তদ্রুপ ডেট ওভার পলিটিশিয়ানও ভ্যালুলেস। উনাদের স্বপ্নটা শেষতক হয়তো কলুর স্বপ্নের মতোই বাস্তবে তেলগুলো মাটিতে গিয়ে আছাড় খাবে। সেদিকে আর যাচ্ছি না।
যদিও এটাই সত্যি যে বাংলাদেশের একটা অংশের লোকজন বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটির সমর্থক বা ভোটার। তারা কারা কী তাদের পরিচয় হতে পারে বা হবে সেই দিক নিয়েও বলছি না। শুধু বলবো আপনি যদি বাংলাদেশের রাজনীতির মিনিমাম লেবেলের পর্যবেক্ষক হয়ে থাকেন তাহলে গত ৮ বছরে দেওয়া বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী সাহেবের সকল বক্তব্য সংগ্রহ করুন, তারপর বক্তব্যগুলো শুনুন বা পড়ুন, তারপর গবেষণা করুন, হোয়াট ইস বিএনপির মাইন্ড সেটাপ…। আশা করি উত্তর পেয়ে যাবেন। কারা এই দলটার হার্ড কোর সমর্থক বা ভোটার বুঝতে বাকী থাকবে না। বিশ্বাস করি বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে তোফায়েল সাহেবের দেওয়া বক্তব্যের ১ লাখ মানুষ হত্যা হবে অংকটা ভুল এটা কয়েক লাখ ছাড়িয়ে যাবে।
প্রশ্ন করতে পারেন কেন যাবে? কিসের এতো শংকা? উত্তর দিচ্ছি। তার আগে স্মরণ করিয়ে দিতেই হচ্ছে ১৯৯৬-২০০১ সময়টায় বয়স যাই ছিল একেবারে যে ছোট ছিলাম তা নয়, বেশ বুঝি তখন। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশে এমন কোন তাণ্ডব বা বুলডোজার চালায়নি বা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতায় এসে ১ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০০২ এর মধ্যে ১৮ হাজার সহিংসতার ঘটনা ঘটানোর দরকার ছিল। এর মধ্যে ধর্ষণ, লুটপাট, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, অগ্নি সংযোগের অপরাধ ছিল ৩ হাজার ২৭০টি।। শুধু এখানেই শেষ ছিল না পরবর্তী ২০০৩ জানুয়ারী থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত ১৪ হাজার সহিংসতার ঘটনা ঘটায়। বিএনপি-জামায়াতের হাতে সর্বমোট মিলিয়ে সংখ্যা হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, এমপি, সাবেক মন্ত্রী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২০০১ সালে ৫০০ জন, ২০০২ সালে ৩১০ জন, ২০০৩ সালে ২০৩ জন, ২০০৪ সালে ৫২ জন, ২০০৫ সালে ৩৪ জন ও ২০০৬ সালে ১২০ জন নিহত হয়।
এসব হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, বাড়িঘর লুটপাটের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের ২৫জন মন্ত্রী-এমপি এবং ২৬ হাজার ৩৫২জন নেতা-কর্মী। সিরাজগঞ্জের কিশোরী পূর্ণিমার কথা হয়তো সবারই মনে আছে। এর বাইরে আরেকটা ঘটনা জানানো জরুরি ভোলার লালমোহন এলাকার তিনটি হিন্দু গ্রামের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধা এমনকি শারিরীক প্রতিবন্ধীদেরকেও ধর্ষণ করা হয়েছিল ২০০১ সালের অক্টোবরে।
আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা কি জানেন? ২০০১-২০০৬ সময়ের বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার করতে না পারাটা। যদি ঐ বিচার হতো তাহলে ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ দেখতে হত না। গুণতে হত না আগুনে পোড়া লাশের সংখ্যা, গুণতে হত না পোড়া যানবাহনের সংখ্যা কিংবা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বা সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর বা তাদের লাশের সংখ্যা। তারপরও চোরের মায়ের বড় গলা শুনেই আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে হচ্ছে। হয়ত এটাই এই দেশের পলিটিক্যাল কালচার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠেছে।
এখন যুক্তফ্রন্ট নামে জোটটি বিএনপির রাজনৈতিক ও নির্বাচনী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য মাঠে নামতে চাইছে। তার আগে বিএনপিকে হত্যা ধর্ষণ খুন গাড়ি পোড়ানোর জন্য জাতির কাছে ক্ষমা করতে হবে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)








