অ্যান্ডারসন কুপারকে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতকারে প্রিন্স হ্যারি বলেছেন, আমি বা মেগান মার্কল কেউই রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ করিনি। রাজ প্রাসাদে অবচেতনভাবে পক্ষপাতিত্ব চলে আসছে, যা এখন সমাধান করা দরকার।
গত রবিবার আত্মজীবনী “স্পেয়ার” এর প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রিন্স হ্যারি আইটিভি চ্যানেলকে এক সাক্ষাতকার দিয়েছেন। সেখানে উঠে এসেছে নানা বিষয়।
বই প্রকাশের কারণ
প্রিন্স হ্যারি বলেন, আমি ৩৮ বছর যাবৎ “ইচ্ছাকৃত করা পরিস্থিতি ও বিকৃতি” সহ্য করে আসছি। বইটি প্রকাশ করে পরিবারের কারো ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য আমার নেই, তবে পরিবারের কিছু সদস্যের কারণে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছিল বিধায় আমি বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছি।
মায়ের শেষকৃত্যে বিষয়ে
প্রিন্স হ্যারি ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তার কফিনের পিছনে হাঁটার কথা স্মরণ করে জানান, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। চারপাশের আর্তনাদ আর হাহাকারের মাঝেও যে নীরবতা তাকে গ্রাস করেছিল, তা তিনি আজও বয়ে চলছেন।
প্রিন্স উইলিয়ামের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে
প্রিন্স হ্যারি তার বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সাথে তার শীতল সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। কীভাবে বাল্যকালে তারা লড়াই করতেন, উইলিয়াম কীভাবে তাকে স্কুলে উপেক্ষা করতেন, মেগানের সাথে বিয়ের আগে তার দাড়ি কামানোর চেষ্টা ইত্যাদি বিষয় তিনি তার আত্মজীবনীতে তুলে ধরেছেন।
ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিডিয়াতে মেগান এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য তিনি উইলিয়ামকে অভিযুক্ত করেছিলেন এবং বলেছিলেন, বিষয়টির রেশ ধরে এক সময় উইলিয়াম তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছিলেন।
উইলিয়াম, কেট এবং মেগান সম্পর্কে
প্রিন্স হ্যারি জানান, প্রিন্স উইলিয়াম এবং কেট মিডলটন দুজনই মার্কিন নাটক “স্যুটস” এর ভক্ত, যেখানে মেগান মার্কল অভিনয় করেছিলেন। তবে তারা মেগানের মতো কারও সাথে হ্যারির সম্পর্ক হওয়ার ব্যাপারে আশাও করেননি। এ বিষয়টি মেগানকে পরিবারে স্বাগত জানাতে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করেছিল।
তবে তিনি বলেন, উইলিয়াম আমাকে মেগানকে বিয়ে করা থেকে বিরত করার চেষ্টা করেননি।
রাজ পরিবারে বর্ণবাদের বিষয়ে
প্রিন্স হ্যারি সাক্ষাতকারে জানান, তিনি বা মেগান কেউ রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ করেননি। তবে রাজ প্রাসাদে অবচেতনভাবে পক্ষপাতিত্ব চলে আসছে, যার এখন সমাধান করা দরকার।
মিডিয়া প্রসঙ্গে
প্রিন্স হ্যারি ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড প্রেস এর বিরুদ্ধে প্রাসাদের যোগসাজশের সাথে জড়িত থাকার, বর্ণবাদ, ক্রোনিজম এবং নকলের ব্যাপারে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, আমি এবং মেগান নেতিবাচক কভারেজের শিকার হয়েছি। তিনটি ব্রিটিশ সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে ফোন হ্যাকিংয়ের অভিযোগ করেন প্রিন্স হ্যারি।
ভবিষ্যত নিয়ে
প্রিন্স হ্যারি জানান, তিনি এখন তার পরিবারের সাথে যে কোনও জটিল কথোপকথন মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত আছেন।








