ডাকসুর সাবেক এজিএস নাসিরউদ্দৌজা বলেছেন, ডাকসু নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর রক্তের অধিকার।
সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাবেক এই এজিএস আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার অধিকার কারও নেই৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর যেমন ছাত্র ভর্তি হয়, তেমনি প্রতিবছরও ডাকসু নির্বাচন হতে হবে৷ বাংলাদেশে এখন নৈশকালীন নির্বাচন হচ্ছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈশকালীন নির্বাচন হবে না, নির্বাচন হবে প্রকাশ্য দিবালোকে৷যে ডাকসু আগামী দিনের পথ দেখাবে, সে ডাকসু নির্বাচনের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ডাকসু নির্বাচন কারও দয়ার দান নয়৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ছাত্র ভিক্ষার ঝুড়ি নিয়ে পথে পথে ঘুরছে না৷ আমাকে দুই টাকা ভিক্ষা দেন, আমাকে ডাকসু নির্বাচন দেন৷ এই নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর রক্তের অধিকার।”
সমাবেশ থেকে বক্তারা ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে ডাকসুর তফসিল ঘোষণা করা ও ডাকসুর ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থাপনের দাবি জানান৷
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন ৩টি দাবি ঘোষণা করেছে:-
১. গেস্টরুমে নির্যাতন বন্ধ করে হলগুলোতে প্রশাসনিকভাবে সিট বণ্টন ৷
২.ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থাপন৷
৩.বিগত ২৮ বছরের ছাত্র বিমুখী সকল সিদ্ধান্ত বাতিল৷
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি উম্মে হাবীবা বেনজীর, কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হোক নুর।
সালমান সিদ্দিকী বলেন, যদি একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহাবস্থান না হয়, যদি হলগুলোতে ছাত্রলীগের প্রচণ্ড দখলদারিত্ব বন্ধ না করা হয় তবে আসন্ন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনও ভালো সম্ভাবনা দেখি না৷ নির্বাচনে ছাত্ররা তাদের পছন্দের নেতা নির্বাচন করবে৷ কিন্তু নির্বাচনের নামে যদি প্রহসন হয় তা আমরা কখনও মেনে নিবো না৷
উম্মে হাবীবা বেনজীর বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত ডাকসু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করে আসছি৷কিন্তু ১১ মার্চের নির্বাচন নিয়ে খুব সম্ভাবনা দেখছি না৷ বরং আমরা আরেকটা ৩০ ডিসেম্বর এর মতো নির্বাচনের আশংকা করছি৷যদি একাডেমিক ভবনে ডাকসুর ভোটকেন্দ্র স্থাপন না করা হয় তবে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আমরা দ্বিতীয়বার ভাববো৷ হলগুলোতে ছাত্রলীগের দখলদারিত্ব থেকে যদি মুক্ত করা না হলে আমরা সাধারণ ছাত্রদের সাথে নিয়ে আবারও আন্দোলন করে প্রশাসনকে বাধ্য করবো৷
কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হোক নুর বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে৷ যে ডাকসুকে বলা হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ৷ ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনরে ধন্যবাদ জানাচ্ছি৷ আমাদের ২টি মৌলিক দাবি হলো প্রথমত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে দ্বিকীয়ত ডাকসুর ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থাপন করতে হবে৷
সমাপনী বক্তব্যে ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ’৫৪ র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯ র গণঅভ্যুত্থান, ৭১ র স্বাধীনতা আন্দোলনে ডাকসুর ভূমিকা ছিল অভাবনীয়৷ সুতরাং ডাকসু নির্বাচনকে উৎসব মুখর ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে নির্বাচনকে আগ্রহী করে তুলতে ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থাপন করতে হবে।’
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রাজিব দাস৷








