মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের যৌন সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতে ২০১১ সালে গাড়ি পার্কের সময় হুমকি পান বলে দাবি করেছেন এই তারকা।
স্টর্মি ড্যানিয়েলরস তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনর অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এই গোপন চুক্তিতে স্বাক্ষর করি এবং অর্থ গ্রহণ করি।
ট্রাম্প-স্টর্মির যৌন সম্পর্কের কথা গোপন রাখতে হওয়া চুক্তিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষর না থাকায় তা এখন অবৈধ বলেও দাবি করেন এই তারকা।
রোববার সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে স্টর্মি ড্যানিয়েলস এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প-স্টর্মির যৌন সম্পর্কের বিষয়ে নাক গলাতে শুরু করেছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের গোপন সম্পর্কের থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস।
পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলস রোববার রাতে সাক্ষাতকারে যে সব অভিযোগ করেছে তার কোনটাই সত্য নয় বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এই সম্পর্কের কথা হোয়াইট হাউস দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলে জানিয়েছে মুখপাত্র রাজ শাহ।
প্রেসিডেন্ট দৃঢ়, স্পষ্ট এবং ধারাবাহিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও সোমবার ট্রাম্পের কোনো জনসভা না থাকা সত্বেও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।
গত ১৭ মার্চ ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন মার্কিন নির্বাচনের আগে যৌন সম্পর্কের ব্যাপারে মুখ বন্ধ রাখতে স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে করা গোপন চুক্তি ভঙ্গের দায়ে ২ কোটি ডলার দাবি করেন।
ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন বলেন: পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলস ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে মুখ না খোলা যে চুক্তি আবদ্ধ হয়েছিলো তা এখন পর্যন্ত বিশ বার লঙ্ঘন করেছেন।
কোহেন বলেন, পর্ন তারকার মুখ বন্ধ রাখতে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছেন তিনি। গত সোমবারে স্টর্মির সংশোধন করা আইনী নথিতে কোহেন বিরুদ্ধে টাকার বিনিময় নিয়ে তাকে সম্মানহানীর অভিযোগ করা হয়। সংশোধিত ওই মামলায় অভিযোগ করা হয় টাকার বিনিময় ক্যাম্পেইন- ফিনান্স আইনকে লঙ্ঘন করে।
কোহেনের পক্ষ থেকে স্টর্মিকে পাঠানো এক চিঠিতে হুমকি, সাক্ষাতকার ও অভিযোগ তুলে নিতে আহ্বান করা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয় কে বা কারা এবং আদৌও এ ধরনের হুমকির ঘটনা ঘটেছে কি না তা কোহেন জানেনা বলে জানিয়েছে কোহেনের আইনজীবী ব্রেন্ট ব্লাকলি।
চিঠিতে বলা হয় খুব দ্রুত স্টর্মির মিডিয়ার সামনে কোহেনের কাছে ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন। মিডিয়ার সামনে দেয়া ৬০ মিনিটের ওই মিথ্যা অভিযোগের ব্যাপারে সবাইকে স্পষ্ট করে বলা উচিৎ যে তার সঙ্গে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বা এমন কোনো তথ্য প্রমাণও নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রথম থেকেই তীব্রভাবে অস্বীকার করে আসলেও এবারই প্রথম তিনি এই মামলায় সরাসরি জড়ালেন।
পর্ন স্টার স্টর্মি ড্যানিয়েলস সিবিএস নিউজের ৬০ মিনিটের এক সাক্ষাতকারে দাবি করেছিলেন, ২০০৬ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক হয়।
এর আগে পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলস ‘গোপনীয় চুক্তিতে’ স্বাক্ষর না করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লস অ্যাঞ্জেলসের কোর্টে মামলা করেন তিনি। তবে ছদ্মনামের স্টর্মির আসল নাম স্টেফ্যানি ক্লিফোর্ড।
ক্লিফার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, আমার সঙ্গে ট্রাম্পের যে চুক্তি হয়েছিল, তা বাতিল হয়ে গেছে। তার সাথে আমার গোপন সম্পর্কের বিষয়ে আমি এখন প্রকাশ্যে আলোচনা করতে পারি।
স্টেফ্যানি ক্লিফোর্ড ২০১১ সালের টার্চ ম্যাগাজিনে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সর্বপ্রথম যৌন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন।








