পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের নিন্দাসূচক একটি প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন থেকে সরে এসেছে মিশর। আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে নতুন বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান জানানো প্রস্তাবের উপর (স্থানীয় সময়) বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণের কথা ছিলো। কিন্তু মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্বেগ এবং তৎপরতায় তা বিলম্বিত হলো। তবে নিরাপত্তা পরিষদের অন্য চারটি সদস্য দেশ এ বিষয় সামনে আনবে বলে সতর্ক করেছে।
হঠাৎ করেই মিশরের এমন পদক্ষেপ ট্রাম্পের বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করার প্রেক্ষিতে। যদিও একজন মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসি-কে ভেটো প্রদান থেকে বিরত থাকার আভাস দিয়েছিলো। পরে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য ইসরায়েল ট্রাম্পের ট্রানজিশনাল টিমের সাথে যোগাযোগ করে, রয়টার্সকে এমনটি জানান ইসরায়েলের একজন কর্মকর্তা।
মিশরের প্রেসিডেন্টের আবদেল আল-সিসির সাথেও ট্রাম্প কথা বলেন এবং প্রস্তাবের বিষয়টি নিয়ে নতুন মার্কিন প্রশাসনকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে তারা একমত হন, সিসির কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এমনটি জানানো হয়। আগামী ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ট্রাম্প।
বরাবরই এধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতার আশ্রয় পেয়ে আসা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, ইসরায়েল-বিরোধী প্রস্তাবের বিপক্ষে মার্কিন অবস্থানকে ইউএস-ইসরায়েল সম্পর্কের অন্যতম মূল ভিত্তি বলেন, কৃতজ্ঞতা জানান। এই নীতি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে ওবামা প্রশাসন সরে আসার আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দিনের শুরুতেই প্রস্তাবটিকে পরাজিত করতে ট্রাম্প নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন। “জাতিসংঘ আরোপিত কোন বাধ্যবাধকতা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনে শান্তি আনবে না। বরং আলোচনার ক্ষেত্রে তা ইসরায়েলের অবস্থান দুর্বল করবে, যা ঘোরতর অন্যায়।” এমন অভিমত ট্রাম্পের।
তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রস্তাবের বিষয়ে মিশর অগ্রসর না হলে নিরাপত্তা পরিষদের চার সদস্য দেশ তা করবে বলে সতর্ক করেছে। দুই বছর মেয়াদে সদস্য পদ পাওয়া এই দেশগুলো হলো নিউজিল্যান্ড, ভেনেজুয়েলা, মালয়েশিয়া এবং সেনেগাল।







