আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে সকল প্রসিকিউটর একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে তারা মিসকন্ডাক্ট (অসদাচরণ) করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ শুনানিতে এ মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউসনের পক্ষের আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে একথা বলেন প্রধান বিচারপতি।
তিনি বলেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি তো একটা এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে। তাই তাদের অনুষ্ঠানে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের যোগ দেয়াটা মিসকন্ডাক্ট।
সোমবার মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা আবেদন) খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শেষ রিভিউ খারিজ করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি শেষ করেন। রোববার সাঈদীর পক্ষে রিভিউ শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।
গত ৬ এপ্রিল সাঈদীর আইনজীবীর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ মে রিভিউ শুনানির দিন ধার্য করেন আপিল বেঞ্চ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেছিলেন সাঈদীর আইনজীবীরা।
আর একই বছরের ১২ জানুয়ারি সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আবেদনে সাঈদীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় পুনর্বহাল চাওয়া হয়।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।পরে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সাঈদী আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর ফাঁসির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
সে আদেশের বিরুদ্ধে পরে রিভিউ করেন সাঈদী ও রাষ্ট্রপক্ষ। রিভিউ আবেদনে সাঈদীর পক্ষ থেকে খালাস চাওয়া হয় আর রাষ্ট্রপক্ষ চান মৃত্যুদণ্ড।








