পূর্ব চীন সাগরে ডুবে যাওয়া ইরানের তেলের ট্যাঙ্কার সানচি থেকে ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়া তেল পরিষ্কার করতে উঠেপড়ে লেগেছে চীনের জাহাজগুলো। এত বিপুল পরিমাণে তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার জীববৈচিত্র্য চরম ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কয়েক দশকের মধ্যে এটিই চীন সাগরে সবচেয়ে মারাত্মক তেল ট্যাঙ্কার বিপর্যয়ের ঘটনা বলে জানিয়েছে চীন ও জাপানের গণমাধ্যম। ছড়িয়ে পড়া তেল সানচির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল যা খুবই ভারী ধরনের।
প্রায় আট দিন ধরে আগুন জ্বলার পর রোববার তেলের ট্যাঙ্কারটি ডুবে যায়। ট্যাঙ্কারের নিখোঁজ ৩২ নাবিকের মাত্র একজনের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের সবাইকে মৃত ঘোষণা করেছে। নিখোঁজ ক্রুদের মধ্যে ৩০ জন ইরানি এবং ২ বাংলাদেশি রয়েছেন।
চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, স্থানীয় সময় ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় হংকংয়ের রেজিস্ট্রেশনযুক্ত ফ্রেইটার ‘সিএফ ক্রিস্টাল’-এর সঙ্গে ইরানের তেলের ট্যাঙ্কার ‘সানচি’র সংঘর্ষ হয়। প্রায় সাথে সাথেই পুরো ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়।
পানামার রেজিস্ট্রেশনযুক্ত ইরানি ট্যাঙ্কার সানচি ১ লাখ ৩৬ হাজার টন কনডেনসেট (অতি হালকা অপরিশোধিত তেল) নিয়ে ইরান থেকে সাউথ কোরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করছিল। যাত্রাপথে চীনের পূর্ব উপকূলে তীর থেকে ২৫৭ কিলোমিটার দূরে ক্রিস্টালের সঙ্গে সেটি ধাক্কা খায়। সংঘর্ষে ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ হয় এবং ট্যাঙ্কার থেকে সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ে।
তীব্র ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি ও চার মিটার অবধি উঁচু ঢেউয়ের কারণে সেই তেলে লেগে যাওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়। অবশেষে আটদিন আগুনে পুড়ে পূর্ব চীন উপকূলের কাছে ডুবে যায় ট্যাঙ্কার সানচি।
মালবাহী ফ্রেইটার ক্রিস্টালের ২১ জন ক্রুর সবাইকে প্রথমদিকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাদের সবাই চীনের নাগরিক। ৩০ ইরানি ও দুই বাংলাদেশি মিলে সানচির ক্রুদের ৩২ জনের সবাই প্রথমে নিখোঁজ থাকলেও গত ৮ জানুয়ারি তাদের একজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।









