আশঙ্কাটাই সত্যি হল। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে টি-টুয়েন্টি সিরিজের দুই ম্যাচেও পাচ্ছে না বাংলাদেশ। শনিবার তাকে নিয়েই দল ঘোষণা করা হলেও তখন কেবল প্রথম ম্যাচে নামা ঘিরে শঙ্কায় ছিল বিসিবি। রোববার সাকিব নিজেই নিশ্চিত করলেন সিরিজের বাকিটাতে খেলা হচ্ছে না তার।
দুর্নীতি দমন কমিশনের শুভেচ্ছা দূত হয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে এসেছিলেন সাকিব। খেলতে না পারার কথাটি সেখানেই জানিয়েছেন।
‘হাতের ইনজুরি পুরোপুরি সেরে উঠতে আরও দুসপ্তাহ সময় লাগবে। তাতে টি-টুয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারছি না। আশা করি সামনের নিধাস ট্রফিতে মাঠে ফিরতে পারবো।’
মার্চে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ভারত ও বাংলাদেশকে নিয়ে একটি টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলবে স্বাগতিকরা। সাকিব আশা করছেন সেখানে ফেরারই।
টেস্টে অলরাউন্ডার সাকিবকে হারিয়ে ভালই ধুঁকেছে বাংলাদেশ। টি-টুয়েন্টি সিরিজেও তাকে না পাওয়া মানে আরেকটি বড় ক্ষতিই। সাদা পোশাকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অধিনায়কের ভার সামলেছেন। টি-টুয়েন্টিতে তারই নেতৃত্বভার সামলানোর সম্ভাবনা বেশি। বিসিবি অবশ্য রোববার দুপুর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি।
আগামী ১৫ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি হবে টি-টুয়েন্টি সিরিজের ম্যাচ দুটি।
শনিবার সাকিবকে নিয়ে যখন দল ঘোষণা হল তখন কেবল শঙ্কাতেই ছিল বিসিবি। আনুষ্ঠানিক কিছু জানাতে সময় নিচ্ছিল বোর্ড। কেননা ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আঙুলে চোট পাওয়া টাইগার তারকার মাঠে ফেরার দিনক্ষণ নিয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না বিসিবির চিকিৎসকরাও।
সাকিবের আঙুলের সেলাই খোলা হয়েছে শনিবার সন্ধ্যায়। দুই সপ্তাহ ব্যান্ডেজে মোড়ানো কনিষ্ঠ আঙুলে নিরাময় হয়েছে বেশ ভালই। ক্ষত শুকিয়েছে। ব্যান্ডেজ খুলে অ্যাপোলো হাসপাতালের সার্জন বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীকে পরামর্শ দেন সাকিবকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরাতে।
দেবাশীষ চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, সাকিবের সার্বিক অবস্থা বুঝেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার রুটিন সাজাবে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ। রোববার শুরু হবে দলের অন্যতম সেরা তারকার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। কনিষ্ঠ আঙুলে দশটি সেলাই পড়ার ধকল থাকায় ম্যাচ খেলানোর জন্য তাড়াহুড়ো করার পক্ষে নয় বিসিবিও।

গত ২৭ জানুয়ারি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ৪২তম ওভারে এক্সট্রা কাভার থেকে ছুটে এসে স্টাম্প ভাঙতে গিয়েছিলেন সাকিব। তখন কনিষ্ঠ আঙুলে চোট পান। দ্রুতই নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। আঙুলে কোন চিড় ধরা না পড়লেও মচকে যায় গোড়ায়, সেলাই করতে হয়।
সাকিব না থাকায় চট্টগ্রাম ও ঢাকা টেস্টে অধিনায়কত্ব করে দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। প্রথম টেস্টে মুমিনুলের জোড়া সেঞ্চুরিতে ড্র করলেও দ্বিতীয় টেস্টে ২১৫ রানের বড় হার দেখেছে বাংলাদেশ।








