ভারতে চলমান টি-২০ বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিং প্রতিরোধে ক্রিকেটের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা স্টেডিয়ামে ভক্ত-সমর্থক এবং টিম হোটেলগুলো পর্যবেক্ষণের আওতাধীন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দৈনিক গালফ টাইমসে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) এন্টি-করাপশন ইউনিট (এসিইউ) প্রধান রনি ফ্ল্যানাগান সংবাদ সংস্থা এএফপি’কে জানান, এপ্রিলের ৩ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এবারের বৈশ্বিক আসরটির সময়কালীন কোন চেষ্টাই বাদ রাখবে না তার দল।
তিনি বলেন, দলগুলো যে হোটেলে থাকছে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। আমরা একই হোটেলে থাকবো এবং খেলোয়াড়দের কাছে পৌছাতে চায় এমন সকলেই আমাদের নজরদারীতে থাকবে।
২০০০ সালে ভারতীয় একটি হোটেলেই ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত স্ক্যান্ডালের (সাউথ আফ্রিকার তৎকালিন অধিনায়ক হেনসি ক্রনিয়ে তার তিনজন সতীর্থের কাছে ফিক্সিং-এর প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলো) পরেই সৃষ্ট এসিইউ দীর্ঘ সময় ধরেই কাগুজে বাঘ হিসেবে অভিযুক্ত। এ ঘটনায় আজীবন নিষেধাজ্ঞায় দণ্ডিত হওয়ার দুই বছর পরে এক প্লেন দুর্ঘটনায় নিহত হন ক্রনিয়ে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষা দেওয়ার উপরেই শুধু জোড় দেয় এসিইউ, কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে খুব কমই হস্তক্ষেপ করে। এই রকম অভিযোগের মধ্যেই ক্ষুদ্র সংস্করণের ক্রিকেটের ব্যাপক উত্থানের ফলে দুর্নীতির সুযোগ আরও বেড়েছে উল্লেখ করে পর্ষদটি পর্যবেক্ষণও আরও বাড়াবে বলে জানিয়েছেন ফ্ল্যানাগান, যিনি পূর্বে ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় পুলিশ অফিসার ছিলেন।
তিনি বলেন, কিসের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই তা আমরা এখন জানি বলে আমি মনে করি। নজরদারির ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করছি। ক্রিকেটের বিকাশকে যারা কুকর্মের দ্বারা কলুষিত করতে চায় যাতে তাদের বাধা দিতে পারি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এই কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে টিম হোটেল এবং ম্যাচ ভ্যানুগুলোতে ভক্ত সমর্থকদের অংশ ও খেলোয়াড়দের জন্য সংরক্ষিত জায়গায় এসিইউ’এর ডাটাবেজে দুর্নীতির জন্য সন্দেহভাজন হিসেবে অন্তর্ভূক্ত কেউ থাকেন কিনা তা নজরদারি করা।
তদন্তকারীদের গ্রাউন্ডে, সংরক্ষিত এলাকা এবং স্ট্যান্ডগুলোতে নজরদারির কথা উল্লেখসহ বিশেষ করে মোবাইল ফোন থাকা দর্শকদের উপর দৃষ্টি রাখা হবে বলেও জানানো হয়।
সম্প্রতি নিজেকে ‘পিচ সাইডার্স’ অভিহিত করে পরিচয় গোপন রাখা একজন ব্যক্তি এএফপিকে সাক্ষাৎকারে জানান, যখনই ঘটনাটি ঘটে এবং সম্প্রচারের সময়ের যে সামান্য তারতাম্য, তার সুবিধাটিই গ্রহণ করে এরা। তারা যদি প্রতি বলের হিসাব মোবাইলে জানাতে থাকে তবে সম্প্রচার সময় থেকে এগিয়ে থাকতে পারে।
]ক্রিকেটের আলোচিত একটি ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িয়ে রয়েছে লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড ভ্যানুটি। পাকিস্তানি খেলোয়ার সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির এবং মোহাম্মদ আসিফ ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলায় স্পট ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। এছাড়াও ২০১৩ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচে স্পট ফিক্সিং মামলায় পেসার শ্রিশান্ত এবং অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা দুইজন বোলার মুম্বাই হোটেল থেকে গ্রেপ্তার হন। এদের মধ্যে শ্রীশান্ত এবং অজিত চান্দিলা ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও ক্রিকেট থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হন।
জানুয়ারিতে দুর্নীতির প্রসঙ্গ আবারও সরব হয় যখন ঘরোয়া টি-২০ ম্যাচগুলোতে ফিক্সিং এর উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন সাবেক সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেটার গুলাম বদি।






