অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের জন্য চলছে হাহাকার। মাত্র দুই ঘণ্টায় সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির ৪শ’ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি শেষ। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পেঁয়াজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
ভোক্তাদের অভিযোগ, স্বল্প কয়েকটি স্থানে অনেক কম পরিমাণ পেঁয়াজ ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। ট্রাকের সংখ্যা ও পেঁয়াজ বিক্রির পরিমাণ বাড়ানোর দাবি তাদের।
বুধবার রাজধানীর প্রেসক্লাব, সচিবালয় গেইট ও বক চত্তরসহ কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা গেছে, টিসিবি ট্রাকের মাধ্যমে পেঁয়াজ, চিনি, তেল ও মসুর ডাল বিক্রি করছে।
ক্রেতারা বলছেন, প্রতি ট্রাকে মাত্র ৪শ’ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। এত কম পরিমাণে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে লাইনের প্রথমে যারা দাঁড়িয়েছেন শুধু তারাই পেয়েছেন। বাকিরা খালি হাতে ফিরে গেছেন।
রাজধানীর মতিঝিল বক চত্তরের পাশে ২ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও পেঁয়াজ কিনতে পারেননি বেসরকারি চাকরিজীবী সুমন চন্দ্র ঘোষ।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, জনপ্রতি মাত্র ২ কেজি পেঁয়াজ দেয়া হয়। ১১টার সময় লাইনে দাঁড়িয়েছি। আমার সামনে আরও ৪০/৫০ জন রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বড়জোর আর ২০ থেকে ২৫ জন পাবেন। এই রোদের মধ্যে ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়েও পেঁয়াজ কিনতে পারলাম না।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত, হয় পেঁয়াজের দাম শিগগিরই কমানো নতুবা ট্রাকের সংখ্যা ও পেঁয়াজ বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো।
পল্টন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের পাশের রাস্তায় পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন হাসান আলী। তিনি বলেন, সাড়ে ১২ টায় এসেছি। এসে দেখি পেঁয়াজ বিক্রি শেষ। অবশেষে ২ কেজি চিনি নিলাম।
পেঁয়াজের বাড়তি দামের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ক্রেতা বলেন, মাত্র ২ ঘণ্টায় পেঁয়াজ শেষ। হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ৪শ’ কেজি খুবই নগন্য। এখানে অন্তত ২ হাজার কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা উচিত।
সচিবালয় গেইটের উল্টো পাশে পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মনির হোসেন। তিনি বলেন, আজসহ ৩ দিন এসেছি। একদিনও পাইনি।
বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে বিক্রি শুরু করার পর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যেই পেঁয়াজ বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু প্রতি মিনিটে ৬/৭ জন ক্রেতা পেঁয়াজ কিনতে আসে। ক্রেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় তাদের।
প্রেসক্লাবের পাশের রাস্তার বিক্রেতা ফজলুল হক বলেন, আমাদের কিছু করার নাই। ৪শ’ কেজি এক দেড় ঘণ্টায় বিক্রি হয়ে যায়। শত শত মানুষ লাইনে দাঁড়ায়। কিন্তু ২ কেজি হারে পেঁয়াজ পান মাত্র ২শ’ জন। বাকিদের দেব কোথা থেকে।
এ বিষয়ে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ৫টি ট্রাক দিয়ে শুরু হলেও এখন ৩৫টি ট্রাকের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে অবশ্যই ট্রাকের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে এমন ঘোষণা দেয়ার পরই বাংলাদেশের বাজারে হু হু করে বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ ১শ’ থেকে ১১০ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ ৪ থেকে ৫ দিন আগেও দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা আর ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।
পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওযায় সরকার ট্রাকের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।








