টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় নির্মাতা দীপু হাজরা। উৎসব কেন্দ্রীক নন। নিয়মিত নাটক নির্মাণ করে থাকেন তিনি। তার নাটকে ওঠে আসে গ্রাম বাংলার মানুষের গল্প। হাসি কান্না আর নানা ধরনের আবেগের ভেতর দিয়ে তিনি বিনোদিত করেন দর্শককে। আসছে ঈদে তিনি বেশকিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এরমধ্যে অন্যতম একটি কাজ হতে যাচ্ছে ‘মেন্টাল ফ্যামিলি’। বৃন্দাবন দাসের লেখা নাটকটিতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, ফারহানা মিলি, শাহনাজ খুশি ও আ.খ.ম হাসানের মতো অভিনেতা।
ঈদ উৎসবের আগেই শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ফুটবল বিশ্বকাপ। অনেকেই মনে করছেন, বিশ্বকাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবারের ঈদের টিভি অনুষ্ঠানগুলো। তবে বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে বলে টিভি অনুষ্ঠানমালা চাপে পড়ার কোনো কারণ দেখছেন না দীপু হাজরা। তার মতে, হয়তো দর্শক কম হবে, বিজ্ঞাপন পেতে ঝামেলা হবে। কিন্তু এগুলোর বাইরে সবকিছুতো সিডিউল মোতাবেকই চলবে।
কম দর্শককে চাপ হিসেবে দেখছেন না?-এমন প্রশ্নে নির্মাতা বলেন: টিভিতে দর্শক এখন কম হলেও কাজটি ভালো হলে ঠিকই দর্শকের কাছে পৌঁছে যাবে। এখনতো দর্শকের কাছে যাওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম ইউটিউব। খেলার জন্য হয়তো দর্শক যদি নাটকটি দেখতে না পারে পরে নিশ্চয় সে খেলার পরে গিয়ে ইউটিউবে নাটকটি দেখে নিবে।
বিশ্বকাপ না হলেও এখন প্রচুর মানুষ ইউটিউবেই নাটক দেখেন এবং এই মাধ্যমকে ইতিবাচক ভাবে দেখা উচিত মনে করে দীপু হাজরা বলেন, কতো কতো নাটক এখন হচ্ছে, এগুলো কি দর্শকের পক্ষে দেখে ফেলা সম্ভব! একসঙ্গে বিভিন্ন চ্যানেলে নাটক হচ্ছে, এগুলোতো মুহূর্তে দেখা দর্শকের দ্বারা সম্ভব না। আর টিভিতে বিজ্ঞাপন জটিলতাও একটি ব্যাপার। নাটক শুরুর পর বিজ্ঞাপন শুরু হলে দর্শক ভোলেই যায় এতোক্ষণ সে কি দেখেছে।
বিশ্বকাপের জন্য দর্শক কম হলেতো বিজ্ঞাপন নিয়েও চাপে থাকবে চ্যানেলগুলো। সেই ক্ষেত্রে প্রডিউসারতো ক্ষতির মুখোমুখি হবেন? প্রশ্ন শেষ না হতেই নির্মাতা বলেন ওঠেন, প্রডিউসাররা যখন লাভবান হয় তখন কি তার অংশ আমাদের দিয়ে দেয়? লাভ ক্ষতির হিসেব আসলে আমার না। কারণ আমি ব্যবসা করতে বসিনি। আমরাতো শুধু নির্মাণ করি। নির্মাণ করে আগে যা পেতাম এখনো তাই পাই। বরং ক্ষেত্র বিশেষে আগের চেয়েও কম টাকা পাই। কারো লাভ ক্ষতির দিকে তাকিয়ে থেকে আমার লাভ নেই। আমার কাজ হচ্ছে, দর্শক দেখলো কিনা এটা আমার হিসেব।
আমি একবার এক বিখ্যাত শিল্পীর কাছে গিয়েছি। তার সঙ্গে আমার ইন্টারভিউ। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার নাটক কি টিআরপিতে আসে? আমি হুট করে বলে বসলাম, আমি টিআরপির জন্য নাটক বানাই না, নাটক বানাই দর্শকের জন্য।








