আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে টার্গেট কিলিং ও ভয়ঙ্কর নাশকতার পরিকল্পনা করছে ইসলামী ছাত্রশিবির। ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন শিবির নেতাকে বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে অক্টোবর থেকে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডার বাহিনী।
বুধবার ( ২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ওয়ারী থেকে অভিযান চালিয়ে ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শফিউল আলমসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭৫ কেজি বিস্ফোরক, লিফলেট, চাঁদা তোলার (বায়তুল মাল) বই জব্দ করা হয়। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার নেতাকর্মীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব স্বীকার করেছেন। নির্বাচনকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করতে দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছেন তারা। একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন তারা।
নাশকতার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তারা বিস্ফোরক সংগ্রহ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত, সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসেন, দফতর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক খালেদ মাহমুদসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গোপন বৈঠক করেছেন।
সারা দেশে প্রশিক্ষিত ক্যাডারদের ছড়িয়ে দিয়েছে ছাত্রশিবির:
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে অক্টোবর থেকে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডার বাহিনী। সারা দেশে প্রশিক্ষিত ক্যাডার ছড়িয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ অ্যাপসের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। নাশকতা ও হামলার পরিকল্পনা নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহা-পরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, শিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠনের অপতৎপরতার ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পেরেছি নির্বাচন সামনে রেখে ছাত্রশিবির সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
টার্গেট কিলিং ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার পরিকল্পনা:
টার্গেট কিলিং ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের পরিকল্পনা করেছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির।
পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে দিতে সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের তালিকা করে টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনা করেছে তারা। এছাড়াও নাশকতার জন্য তারা বেছে নিয়েছে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দফতর, স্পর্শকাতর বিদ্যুৎ স্টেশন ও বঙ্গবন্ধু সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা স্থাপনা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে অক্টোবর থেকে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডার বাহিনী। বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন (পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, নেপাল) তাদের আর্থিক সহায়তা করছে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীর নাশকতা মোকাবেলা করার সক্ষমতা পুলিশের আছে।










