টাঙ্গাইলে গত রবিবার রাতে বাজার থেকে কেনা তরমুজ খেয়ে এক শিশুর মৃত্যু ও ওই পরিবারের পাঁচজনসহ মোট ১১ জন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে ভর্তি থাকার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে টাঙ্গাইল জেলা জুড়ে বিরাজ করছে তরমুজ আতঙ্ক। প্রচন্ড গরমে সুস্বাদু ফলটির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সোমবার সকাল থেকে তার চিত্র পাল্টে গেছে। বিক্রেতারা নানা ভাবে ক্রেতাদের আশ্বস্ত করতে চাইলেও মৃত্যু ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এই ফলটি থেকে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অধিকাংশ বিক্রেতা জানায় দুপুর ১২টা পার হলেও একটি তরমুজও বিক্রি করতে পারেননি তারা। আর এতে পচনশীল এই ফলটি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
টাঙ্গাইল পৌর এলাকার চরকাগমারা গ্রামের বাবু মিয়ার পিতা মোমিন মিয়া শনিবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন আদালত রোড়ের একটি দোকান থেকে একটি তরমুজ কিনে আনেন। পরের দিন রবিবার বিকেলে পরিবারের সকল সদস্য একত্রিত হয়ে ওই তরমুজটি খায়। তরমুজ খাওয়ার কিছুক্ষণ পর পরিবারের সকল সদস্যই অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে ছয় বছরের শিশু ফাহিমের মৃত্যু হয়।
একই ধরনের ঘটনায় ওই পরিবারের ৫ সদস্যসহ মোট ১১ জনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আর তরমুজ খেয়ে মৃত্যু ও অসুস্থতার খবর দ্রুত পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়লে তরমুজ আতঙ্কে ফলটি কেনা ও খাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন অধিকাংশ মানুষ। এতে করে পচনশীল ফলটি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ফল ব্যবসায়ী জানায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আরতদার অতি লোভের আশায় তরমুজকে লাল এবং অধিক মিষ্টি করতে তরমুজের বোটায় ইনজেকশনের মাধ্যমে মধু মেডিসিন ( বিষাক্ত ক্যামিকেল ) পুশ করে। যার ফলে ওই তরমুজের চাহিদা ও দাম সব সময় বেশি থাকে। তবে তাদের দাবি সকল বিক্রেতা এ কাজে জড়িত নয়। জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তারা।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক নুর মোহাম্মদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ভর্তি সকলেই অনেকটা আশঙ্কামুক্ত। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ফুড পয়জনের কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে। ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল আসছে। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এই ঘটনার মূল কারণ কি।
টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, তরমুজ ক্রেতা মোমিন মিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী শহরের চার তরমুজ বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সেই সাথে নমুনা পরীক্ষার জন্য তরমুজ সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।








