এশিয়ার কাপে ভারতের বিপক্ষে হার দিয়ে আসর শুরু করলেও আজ জয় দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ টাইগারদের সামনে। মাশরাফি-সাকিব-মুশফিকদের প্রতিপক্ষ আইসিসি’র সহযোগী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ক্রিকেটেপ্রেমীদের বিশ্বাস বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে আরব আমিরাত এক রকম উড়েই যাবে। কিন্তু টি-২০ ফরমেটে সহজ প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। তাই আমির শাহির দলটিকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কেননা আইসিসি’র সহযোগী দেশ নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, এমনকি হংকংয়ের বিপক্ষেও হারের ইতিহাস রয়েছে বাংলাদেশের।
২০১৪ সালে বাংলাদেশ এশিয়া কাপে হেরেছিলো আফগানিস্তানের কাছে। বাংলাদেশের চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে একধাপ এগিয়ে থাকা সেই আফগানদের হারিয়েই এবার মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আরব আমিরাত। এর কয়েকদিন আগেই এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো আয়ারল্যান্ডের মতো দল হারিয়েছে তারা। দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটার পেশাদার না হলেও পাকিস্তানের এক সময়ের বিশ্ব কাঁপানো ক্রিকেটার আকিব জাভেদের কোচিংয়ে দারুণ উন্নতি করেছে দলটি।
এবারই প্রথম দেখা হচ্ছে এই ফরমেটে অচেনা ক্রিকেট শক্তির সঙ্গে। তবে যতটা না ভয় আরব আমিরাতকে নিয়ে তার চেয়ে বেশি ভয় বাংলাদেশকে নিয়ে। টি-২০ ফরমেটে নিজেদের সেরাটা এখনো অর্জন করতে পারেনি তারা। ওয়ানডের পারফর্মেন্সটা টি-২০তে মোটেই নকল করতে পারছে না তারা। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা না থাকার কারণে পঁচা শামুকে পা কাটার যে ভয় থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে কোয়ালিফাইং পর্বের তিন ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করে অপরাজিত থাকলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি আমিরাতের জন্য ছিলো অভিজ্ঞতার সঙ্গে উঠতি শক্তির। তাতে অভিজ্ঞতারই জয় হয়েছে। যেখানে ১২৯ রানের জবাবে মাত্র ১৪ রানে হেরেছে তারা। অনুমিতভাবেই ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা। সব মিলিয়ে টি-২০তে ২৯৯ উইকেট নেওয়া মালিঙ্গাকে আটকাতে পারেনি আমিরাতের ব্যাটসম্যানরা। তাই লঙ্কান ম্যাচের ভুল শুধরে এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে তারাও। ম্যাচে আমিরাতের অন্যতম শক্তি হিসেবে দলে থাকা রোহান মুস্তাফা, মুহাম্মদ কালিম, মুহাম্মদ উসমান, মোহাম্মদ নাভেদ ও সাইমান আনোয়ার।
প্রশ্ন আছে বাংলাদেশ দলকে নিয়েও। এই ম্যাচেও কি ক্যাচ ফেলবে বাংলাদেশ? ব্যাটসম্যানরা কি এ ম্যাচেও ব্যর্থ হবেন। সাকিব মুশফিক কি ফর্মে ফিরবেন? মুস্তাফিজ কি কাটার ফিরে পাবেন? এরকম আরো অনেক প্রশ্ন।
শক্তি আর সাফল্যের বিচারে দুই দলের পার্থক্য রয়েছে। আইসিসি টি-২০ র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ নম্বরে। আর আমিরাত রয়েছে ১৫ নম্বরে। বাংলাদেশ-আরব আমিরাত একবারই মুখোমুখি হয়েছেছিল। ২০০৮ সালে এশিয়াকাপের ম্যাচে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ৯৬ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ১০৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশের করা ৩০০ রানের জবাবে ২০৪ রান করতে পেরেছিল আমিরাত।
র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও একটা জায়গায় এগিয়ে রয়েছে আরব আমিরাত। সর্বশেষ জয়-পরাজয়ের হিসেবে এগিয়ে মরু দেশটি। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে পাঁচটিতে আমিরাতের হার দুটিতে। তবে ঘরের মাঠ আর মিরপুরের অনেক সুখ স্মৃতির কারণে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।
আমির শাহি দলে রয়েছেন রোহান মুস্তাফা। দলের নবাগত তারকাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে এগিয়ে। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতায় ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন বোলার মোহাম্মদ নাভেদ। কারণও আছে, টি-২০তে অন্তত ৪০ ওভার বল খেলেছেন এমন বোলারদের তার ইকোনোমি রেট সবচেয়ে কম (৫.৯২)। এছাড়াও আমিরাতের হয়ে জ্বলে উঠতে পারেন সাইমান আনোয়ার। আমিরাতের হয়ে সর্বাধিক রানের মালিক তিনিই।
অন্যদিকে, ভারতের বিপক্ষে ১৬৬ রান তাড়া করতে নেমে দেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবালের অভাবটা স্পষ্ট হয়। তার পরিবর্তে ওপেন করতে এসেছিলেন দেশের হয়ে মাত্র ২টি টি-২০ খেলা মোহাম্মদ মিঠুন। আস্থার প্রতিদান তিনি দিতে পারেননি নিজের তৃতীয় ম্যাচেও। এর আগে ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেও তিনি হিসেবে খাতা খোলার আগেই আউট হয়েছিলেন। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে দলে থাকলেও ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়াতে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। এবার তিনি আউট হলেন ১ রান করে।
দলের তরুণ ব্যটিং ভরসা সৌম্য সরকার মাত্র ১১ রান করে আউট হয়েছেন। তাই এই ম্যাচে পরিবর্তন আসতে পারে। ইমরুল কায়েসকে বসিয়ে নুরুল হাসান অথবা নাসির হোসেন দলে প্রবেশ করতে পারেন।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের তুরুপের তাশ হতে পারেন সাকিব, মুশফিক ও মুস্তাফিজের যে কেউ। এই ম্যাচে দুরন্ত কিছু করে প্রথম ম্যাচের সমালোচনার জবাব দিতে পারেন সাকিব। একই তাড়া থাকবে মুশফিকের মধ্যে। আর চার ওভার বল করে কোনো উইকেট নিতে না পারা মুস্তাফিজ আমিরাত ইনিংস শুরুতেই ধসিয়ে দিতে পারেন।
প্রথম দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও মিরপুরের পিচ সবুজ হবে। পিচে ঘাসের সঙ্গে মিডিয়াম গতির থাকতে পারে। তবে গতকাল কোনো বৃষ্টি না হওয়ায় আগে চেয়ে হার্ড হবে পিচ। সেক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান-বোলার সবার জন্যই সুযোগ থাকছে। এই ম্যাচ সামনে রেখে আবহাওয়া বার্তাও ভালো। ওয়েদার ডটকমের খবর অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত বৃষ্টির নামার মতো কোনো আভাস নেই।
সম্ভাব্য বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিথুন/নাসির হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন হোসেন, আরাফাত সানি এবং নুরুল হাসান সোহান।
সম্ভাব্য আরব আমিরাত দল: রোহান মুস্তাফা, মুহাম্মদ কালিম, মোহাম্মদ শাহজাদ, সাইমান আনোয়ার, মুহাম্মদ উসমান, আমজাদ জাভেদ (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নাভেদ, সাকলাইন হাইদার, আহমেদ রেজা, এসপি পাতিল ও কাদের আহমেদ।







