ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করছে। কক্সবাজারের টেকনাফসহ আশেপাশের এলাকায় প্রবল বেগে বইছে ঝড়। সাথে রয়েছে বৃষ্টি। বাড়ছে বাতাসের গতিবেগ। ঝড়ো হাওয়ায় এরই মধ্যে কক্সবাজারের শাহপরী ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে অনেক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি।
কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ প্রথমে নিম্নচাপ ও পরে তা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ‘মোরা’ নামের এ ঘুর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগরে প্রথমে একই স্থানে অবস্থানের পর বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। ঘুর্ণিঝড় অতিক্রমের আগে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালীসহ উপকুলীয় এলাকায় বাড়তে থাকে বৃষ্টি ও বাতাসের গতিবেগ।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চাঁদপুরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত; মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকুলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পটুয়াখালীতে ৫ শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল থেকে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। পটুয়াখালীতে বাতাসের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে বৃষ্টি। একই সঙ্গে জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। সাগর উত্তাল থাকায় অনেক মাছধরা ট্রলার এখনো নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে পারেনি।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এবং কক্সবাজার বিমান বন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সব রুটে নৌ-যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। বন্দর এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
ভিয়েনা সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রশাসনকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।







