গায়ের জার্সি খুলে মাঠের বাইরে চলে গেলেন। গোলদাতা তপু বর্মণকে ঘিরে তখন পুরো বাংলাদেশ দল। তারা বাইরের উদযাপন শেষে মাঠে ফিরলেন ঠিকই। ফিরে তপু হঠাত দুই হাত সামনে তাক করলেন বন্দুকের মতো করে! আর তাকে সামনে থেকে ঘিরে দাঁড়ালেন জনাচারেক সতীর্থ। পরে তপু গুলি ছোঁড়ার মতো করলেন, সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঘিরে থাকা সতীর্থরা পড়ে যাওয়ার ভানও করলেন। যেন সত্যিই গুলি করলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি পাওয়া লাল-সবুজদের ডিফেন্ডার।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে গোল পাওয়ার পর তপু বর্মণের এমন উদযাপন এখন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে। কেনো এমন করলেন বাংলাদেশি ডিফেন্ডার? কাউকে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যেই কী এমন উদযাপন? প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই কী এমন উদযাপন?
ম্যাচ শেষে রহস্য ফাঁস করলেন ম্যাচসেরা তপুই। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দিলেন, আরেক ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সালের পরামর্শেই হুট করে এমন উদযাপন, ‘এটা ওয়ালি ভাইয়ের মাথা থেকে এসেছে। তিনি বললেন, তুমি গুলি করো আর আমরা পরে যাব। আমি তাই করলাম। আসলে এমনিতেই এই উদযাপনটা করা হয়ে গেছে!’
শুধু তাই নয়। গোলের পর জার্সি খুলে হলুদ কার্ডও দেখেছেন তপু। কিন্তু সেই কার্ড নিয়ে তার বিন্দুমাত্র আফসোস নেই। বাংলাদেশকে জয় এনে দেয়া নায়কের চোখেমুখে কেবল খুশির ঝিলিক।
‘আসলে এটা আমার ঠিক করাই ছিল। আমি ভেবে রেখেছিলাম যদি জাতীয় দলের হয়ে গোল করতে পারি, তাহলে জার্সি খুলে এমন উদযাপন করব।’
গ্রুপ ‘এ’ থেকে ভুটান ও পাকিস্তানকে হারালেও এখনো নিশ্চিত নয় বাংলাদেশের সেমিফাইনাল। শনিবার শেষ ম্যাচে যদি ভুটানকে হারায় পাকিস্তান, আর নেপালের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ, তাহলে তিন দলের পয়েন্ট দাঁড়াবে সমান ৬। সেক্ষেত্রে গোল ব্যবধানই মুখ্য হয়ে যাবে সেমিতে যাওয়ার লড়াইয়ে। সেজন্য নেপালের বিপক্ষে নিশ্চিন্তে থাকার অবকাশ নেই বলেও জানালেন দুই ম্যাচে দুই গোল করা তপু।








