সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগবে আওয়ামী লীগের। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, আগামী কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেই হবে তা চূড়ান্ত করা হবে।
২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেই নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অনেক ছিলো আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। নির্বাচনের আগেই তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করে দলটি। আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ ওঠে দলের অনেক নেতা এবং সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধেও।
গত ১০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণ দর্শানোর সিদ্ধান্ত হয়। আর সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারী সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদেরের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাবে বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
কিন্তু ১৫ কার্যদিবস পার হবার পরও এখনও কাউকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করেনি আওয়ামী লীগ। আর মদদদাতা সংসদ সদস্য এবং নেতাদের বিষয়ে তদন্ত শেষ করে ব্যবস্থা নেবার কথা বলেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
তিনি বলেন, পার্টির সিদ্ধান্ত যারা মানে নাই এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন; তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে।
বিদ্রোহীদের মদদদাতাদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে সময় লাগবে উল্লেখ করে শেখ সেলিম বলেন, সংসদ সদস্য এটা করছে বললেতো হবে না। একটা তদন্ত কমিটি সেখানে তদন্ত করে দেখবে। আসলে যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো এসেছে সেগুলো ঠিক কিনা। এটার উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
পৌরসভা নির্বাচনের আওয়ামী লীগের হয়ে যে কয়েকজন তদারকি করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ।
তিনি বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আওয়ামী লীগ।
হানিফ বলেন, ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো এদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার জন্য। কেনো তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না সেই চিঠি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আগামী কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এই বিষয় নিয়ে আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, যে সকল বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করেছেন তাদের বিষয়েও একই সিদ্ধান্ত দলটির। তারা বলেন, বিদ্রোহী হয়ে জয়লাভ করলেই যে দলে ফেরা যাবে বিষয়টি এমন নয়।







